ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা Logo আমির খানের বিয়ে: গৌরীর সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি Logo তাপপ্রবাহ পূর্বাভাস: জুনজুড়ে গরম ও কম বৃষ্টির বিশেষ চিত্র Logo ওয়ালটন চাকরি ২০২৬: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন অনলাইনে Logo লাইভ শপিং চাকরি সার্কুলার: আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগের সুযোগ Logo সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন জটিলতা, খুঁজে মিলছে না কর্মকর্তাদের Logo হাম মৃত্যু ছাড়াল ৬০০, নতুন আক্রান্ত আরও ৫৫ Logo আর্জেন্টিনা নয়, ব্রাজিলও নয়; সবচেয়ে দামি দল ফ্রান্স Logo সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও পূর্ণ গাইড Logo খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, স্ত্রীর ঋণ খেলাপি হওয়া বাধা নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

ইউনিপে টু বাংলাদেশের পরিচালক তাহেরের আয়কর নথি জব্দ

ইউনিপে টু বাংলাদেশের পরিচালক তাহেরের আয়কর নথি জব্দ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় ইউনিপে টু বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক এম এ তাহেরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, এম এ তাহের প্রতারণামূলক কার্যক্রম এবং এমএলএম ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এম এ তাহেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। তদন্তে তাঁর আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং কর নথির অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদের বিবরণে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, তাহের তাঁর স্ত্রীর নামে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এসব সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ এসব সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তাপস ভট্টাচার্য আদালতে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য আয়কর নথি জব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আয়কর নথির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত আয়, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি এসব নথি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।

দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন ও এমএলএম ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। পরে সেই অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এম এ তাহেরের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করলে তা আয়কর নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যদি সম্পদের পরিমাণ এবং ঘোষিত আয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দুর্নীতির মামলায় শক্ত প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।

এদিকে আদালতের এ আদেশের পর এম এ তাহেরের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়কর নথি যাচাই শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আরও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে তাঁর অন্যান্য ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দেশে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতারণা, অবৈধ বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন বা প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আয়কর নথি জব্দের পর তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা

ইউনিপে টু বাংলাদেশের পরিচালক তাহেরের আয়কর নথি জব্দ

Update Time : ০২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় ইউনিপে টু বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক এম এ তাহেরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, এম এ তাহের প্রতারণামূলক কার্যক্রম এবং এমএলএম ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এম এ তাহেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। তদন্তে তাঁর আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং কর নথির অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদের বিবরণে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, স্ত্রীর ঋণ খেলাপি হওয়া বাধা নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, তাহের তাঁর স্ত্রীর নামে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এসব সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ এসব সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তাপস ভট্টাচার্য আদালতে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য আয়কর নথি জব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আয়কর নথির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত আয়, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি এসব নথি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যাকাণ্ডে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন ও এমএলএম ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। পরে সেই অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এম এ তাহেরের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করলে তা আয়কর নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যদি সম্পদের পরিমাণ এবং ঘোষিত আয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দুর্নীতির মামলায় শক্ত প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।

এদিকে আদালতের এ আদেশের পর এম এ তাহেরের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়কর নথি যাচাই শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আরও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে তাঁর অন্যান্য ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোনায় ৬ ড্রাম জ্বালানি তেল জব্দ: যুবককে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দেশে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতারণা, অবৈধ বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন বা প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আয়কর নথি জব্দের পর তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।