ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাচেলরদের বাসা খোঁজার ঝামেলা কমানোর কার্যকর উপায় Logo বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে, হারতেই কী বললেন পরীমনি? Logo ৯৬ বছরে বিশ্ব রেকর্ড! ইন্টারনেটে ঝড় তুললেন এই দাদি Logo দীপিকা পাড়ুকোন অন্তঃসত্ত্বা: দারুণ সাহসে অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং Logo বিশ্বকাপ শেষেই ইরানে ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর হামলা, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য Logo ডিজিটাল কর ব্যবস্থায় রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, আয় ২০ হাজার কোটি টাকা Logo টম ক্রুজের কণ্ঠে আবেগঘন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাকাব্য Logo ডায়মন্ড লাইফের ৬০% শেয়ার কিনল সফটলজিক, বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি অধিগ্রহণ Logo কাজল বাংলা সিনেমা করবেন? কলকাতায় জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত Logo তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়াল: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ

হানিফ মিয়া হত্যা: ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে’-স্ত্রীকে শেষ ফোন

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫২১

নিহত ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচিত হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন কৃষিজমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে হানিফকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টার দিকে হানিফ মিয়া স্ত্রীকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জাকিরের বাড়িতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খোলেনি।পরদিন সকালে জাকিরের বাড়ির কাছেই কৃষিজমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন দুপুরে জাকিরের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন হানিফ মিয়া। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় জাকির গ্রেপ্তার হলে তিনি ধারণা করেন, এর পেছনে হানিফের ভূমিকা ছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই হানিফকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের সহযোগীরা হানিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

হানিফ মিয়া হত্যা
কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, স্ত্রী খুকি বেগম, আত্মীয় নাদিয়া আক্তার ও আয়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রধান আসামি জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এদিকে হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাচেলরদের বাসা খোঁজার ঝামেলা কমানোর কার্যকর উপায়

হানিফ মিয়া হত্যা: ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে’-স্ত্রীকে শেষ ফোন

Update Time : ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচিত হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন কৃষিজমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে হানিফকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টার দিকে হানিফ মিয়া স্ত্রীকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জাকিরের বাড়িতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খোলেনি।পরদিন সকালে জাকিরের বাড়ির কাছেই কৃষিজমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন দুপুরে জাকিরের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন  ধুনটে অচেতন করে অটোরিকশা লুট, উদ্ধার চালক হাসপাতালে

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন হানিফ মিয়া। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় জাকির গ্রেপ্তার হলে তিনি ধারণা করেন, এর পেছনে হানিফের ভূমিকা ছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই হানিফকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন  নান্দাইলে নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ, সন্তানসহ উদ্ধার

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের সহযোগীরা হানিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

হানিফ মিয়া হত্যা
কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, স্ত্রী খুকি বেগম, আত্মীয় নাদিয়া আক্তার ও আয়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রধান আসামি জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন  রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে একাধিক মামলার আসামি, তদন্তে পুলিশ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এদিকে হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।