ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আজহারীর ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে ওষুধ বিক্রি, ২ জন রিমান্ডে

আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে ওষুধ বিক্রি, দুই আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী-এর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ এই আদেশ দেন। পল্টন থানার সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও ভুয়া প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রিমান্ডে পাঠানো দুই আসামি হলেন মো. আবদুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত (২৮) এবং ফুরকান মিয়া (২২)। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিম হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে এবং তাদের শনাক্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি ও গ্রাফিক ডিজাইন ব্যবহার করে আজহারীর মুখ ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভিডিও তৈরি করতেন। এসব ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা হতো যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হন এবং মনে করেন, ভিডিওতে প্রচারিত পণ্যের সঙ্গে আজহারীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা ফেসবুকে একাধিক ভুয়া পেজ খুলে এসব ভিডিও প্রচার করত। পাশাপাশি ‘আশ-শিফা অর্গানিক ডটকম’সহ বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কথিত যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করত। এসব পণ্যকে তারা ধর্মীয় বিশ্বাস ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রভাব ব্যবহার করে বাজারজাত করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ভিডিওগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আজহারীর কণ্ঠস্বর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রায় বাস্তব বলে মনে হতো। একই সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সম্পাদনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যেন তিনি নিজেই ওই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিকে অবস্থানকালে আজহারী প্রথম বিষয়টি নজরে আনেন। পরে তিনি দেখতে পান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নামে একাধিক ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেই ভিডিওর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসারীদের সতর্ক করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব ভিডিও ও পণ্যের সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

ভুয়া প্রচারণা বন্ধে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁর অফিস সহকারী বিল্লাল হোসেন গত ২৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা নিয়মিতভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য প্রচার করত। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য বিদেশি মুদ্রা বা ডলারের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হতো বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিত। পণ্যের বিপণন, ভিডিও তৈরি, বিজ্ঞাপন পরিচালনা এবং অর্থ লেনদেনের জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এজন্য পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসামিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস পরীক্ষা করে ভিডিও তৈরির সফটওয়্যার, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে একই অভিযোগে গত ৫ মে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের আদালতে হাজির করার পর দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। বাকি আটজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন। অন্যদিকে কারাগারে পাঠানো আট আসামির মধ্যে রয়েছেন শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আবদুল্লাহ ফাহিম ও মো. ইমরান।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও একজন আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হলেও তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও কিছু ব্যক্তি নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা ভিডিও হুবহু নকল করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যবহার করে ভুয়া পণ্যের প্রচারণা এখন নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বক্তা, চিকিৎসক বা জনপ্রিয় তারকাদের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো ভিডিও বা বিজ্ঞাপন সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অফিসিয়াল পেজ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন, ডিপফেক ভিডিও এবং অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

আজহারীর ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে ওষুধ বিক্রি, ২ জন রিমান্ডে

Update Time : ১০:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী-এর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ এই আদেশ দেন। পল্টন থানার সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও ভুয়া প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রিমান্ডে পাঠানো দুই আসামি হলেন মো. আবদুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত (২৮) এবং ফুরকান মিয়া (২২)। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিম হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে এবং তাদের শনাক্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি ও গ্রাফিক ডিজাইন ব্যবহার করে আজহারীর মুখ ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভিডিও তৈরি করতেন। এসব ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা হতো যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হন এবং মনে করেন, ভিডিওতে প্রচারিত পণ্যের সঙ্গে আজহারীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে সোহেলের ‘ডলার’ দাবি ঘিরে নতুন নাটক

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা ফেসবুকে একাধিক ভুয়া পেজ খুলে এসব ভিডিও প্রচার করত। পাশাপাশি ‘আশ-শিফা অর্গানিক ডটকম’সহ বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কথিত যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করত। এসব পণ্যকে তারা ধর্মীয় বিশ্বাস ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রভাব ব্যবহার করে বাজারজাত করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ভিডিওগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আজহারীর কণ্ঠস্বর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রায় বাস্তব বলে মনে হতো। একই সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সম্পাদনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যেন তিনি নিজেই ওই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিকে অবস্থানকালে আজহারী প্রথম বিষয়টি নজরে আনেন। পরে তিনি দেখতে পান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নামে একাধিক ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেই ভিডিওর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসারীদের সতর্ক করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এসব ভিডিও ও পণ্যের সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

ভুয়া প্রচারণা বন্ধে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁর অফিস সহকারী বিল্লাল হোসেন গত ২৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সতর্ক হোন: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করবে

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা নিয়মিতভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য প্রচার করত। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য বিদেশি মুদ্রা বা ডলারের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হতো বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিত। পণ্যের বিপণন, ভিডিও তৈরি, বিজ্ঞাপন পরিচালনা এবং অর্থ লেনদেনের জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এজন্য পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসামিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস পরীক্ষা করে ভিডিও তৈরির সফটওয়্যার, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে একই অভিযোগে গত ৫ মে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের আদালতে হাজির করার পর দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। বাকি আটজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন। অন্যদিকে কারাগারে পাঠানো আট আসামির মধ্যে রয়েছেন শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আবদুল্লাহ ফাহিম ও মো. ইমরান।

আরও পড়ুন  আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও একজন আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হলেও তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও কিছু ব্যক্তি নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা ভিডিও হুবহু নকল করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যবহার করে ভুয়া পণ্যের প্রচারণা এখন নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বক্তা, চিকিৎসক বা জনপ্রিয় তারকাদের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো ভিডিও বা বিজ্ঞাপন সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অফিসিয়াল পেজ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন, ডিপফেক ভিডিও এবং অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।