ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

টেলিটক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আইসিটি মন্ত্রীর বক্তব্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৫১২

টেলিটক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি: সংগৃহীত

টেলিটক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পেলে টেলিটককে দেশের বেসরকারি বড় অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা সম্ভব হবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাওয়া গেলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং গ্রাহকসেবা বাড়ানো সহজ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে এবং গ্রাহকরাও আরও উন্নত সেবা পাবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি টেলিকম অপারেটর থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেলিটক বাজারে সক্রিয় থাকলে বেসরকারি অপারেটররা ইচ্ছামতো কল রেট বা ইন্টারনেটের দাম বাড়াতে পারে না। তাই টেলিটকের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো টেলিকম খাতের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকার টেলিকম ও আইসিটি খাতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা আরও বেশি। তিনি জানান, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে এই খাতের অবদান আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হলেও সেবার মানে এখনো অনেক উন্নতির সুযোগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের টেলিকম সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতি সংস্কার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে টেলিকম খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি, ডাটা সেন্টার উন্নয়ন, অবকাঠামো শেয়ারিং এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে টেলিটকসহ পুরো টেলিকম খাত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

টেলিটক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আইসিটি মন্ত্রীর বক্তব্য

Update Time : ০৯:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

টেলিটক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পেলে টেলিটককে দেশের বেসরকারি বড় অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা সম্ভব হবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাওয়া গেলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং গ্রাহকসেবা বাড়ানো সহজ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে এবং গ্রাহকরাও আরও উন্নত সেবা পাবেন।

আরও পড়ুন  শাওমি হোম অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ে বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিং ইকোসিস্টেম

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি টেলিকম অপারেটর থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেলিটক বাজারে সক্রিয় থাকলে বেসরকারি অপারেটররা ইচ্ছামতো কল রেট বা ইন্টারনেটের দাম বাড়াতে পারে না। তাই টেলিটকের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো টেলিকম খাতের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকার টেলিকম ও আইসিটি খাতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা আরও বেশি। তিনি জানান, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে এই খাতের অবদান আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  এআই’র ‘বিপজ্জনক শক্তি’ বুঝতে পারছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোনদিকে যাচ্ছে বিশ্ব

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হলেও সেবার মানে এখনো অনেক উন্নতির সুযোগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের টেলিকম সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতি সংস্কার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে টেলিকম খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি, ডাটা সেন্টার উন্নয়ন, অবকাঠামো শেয়ারিং এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে টেলিটকসহ পুরো টেলিকম খাত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন  নিরাপত্তা বিতর্ক নিয়েই ফিরল মাইক্রোসফটের ‘রিকল’