নিত্যপণ্য আমদানি খাতে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শীর্ষ আমদানিকারক সিটি গ্রুপ এবার আরও পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। একই সঙ্গে ডেল্টা এগ্রোফুড ও প্রাণ–আরএফএলের উত্থান নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর আমদানি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চিনি, ভোজ্যতেল, সয়াবিন, গম, ডাল ও ছোলাসহ সাত ধরনের নিত্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।
এমজিআই একাই প্রায় ৩৩ লাখ টন নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৫১ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি চিনি ও সয়াবিন বীজ আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আগাম আমদানির কৌশল নেওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে টি কে গ্রুপ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস। অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানিতে টি কে গ্রুপ এখন শীর্ষে, অন্যদিকে চিনি ও ভোজ্যতেল খাতে বড় বিনিয়োগের কারণে স্মাইল ফুড দ্রুত বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
অন্যদিকে সিটি গ্রুপের আমদানি এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় স্থান থেকে চতুর্থে নেমে এসেছে। পাশাপাশি নাবিল গ্রুপ পঞ্চম স্থান ধরে রেখেছে। সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ডেল্টা এগ্রোফুড, যারা ১৩তম স্থান থেকে উঠে ষষ্ঠ স্থানে এসেছে। এছাড়া প্রাণ–আরএফএল গ্রুপও প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের নিত্যপণ্য আমদানি খাতে পুরোনো সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। বড় বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কাঁচামাল আমদানির কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নতুন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়ে আসছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



























