ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের ৬ গোলের উৎসব, আনচেলত্তির কৌশলে পানামা বিধ্বস্ত

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে একটি গোল করেন লুকাস পাকেতা (২০ নম্বর জার্সি)

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনার আরেকটি ঝলক দেখাল ব্রাজিল। ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ছয়টি গোলই করেছেন ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়, যা দলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য এবং গভীরতার প্রমাণ দিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। দর্শকদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্রুতগতির আক্রমণ পানামার রক্ষণভাগকে অপ্রস্তুত করে দেয় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

তবে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও ব্রাজিল খুব বেশি সময় স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। ১৪তম মিনিটে পানামা সমতায় ফেরে। একটি ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক এই গোল ব্রাজিলের রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করে।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি। আনচেলত্তি দল সাজিয়েছিলেন ৪-২-৪ ফরমেশনে। এই কৌশলে মাঝমাঠে দায়িত্বে থাকা কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়েছে। পানামা মাঝমাঠে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, কুনহা ও অন্য ফরোয়ার্ডরা সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও আক্রমণগুলো ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। উইং থেকে লম্বা পাস কিংবা উঁচু বল ভাসিয়ে আক্রমণ করার পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। নিচ থেকে গড়ে তোলা আক্রমণের ধারও ছিল সীমিত।

তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন কাসেমিরো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ একটি ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের ফলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই বড় চমক দেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব একটা দেখা যায় না। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, বদলে যায় দলের কৌশলও। ৪-২-৪ থেকে দলকে ৪-৩-৩ ফরমেশনে নিয়ে আসেন ইতালিয়ান এই কোচ।

ফরমেশন পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় নাটকীয় উন্নতি দেখা যায়। মাঝমাঠে ফ্যাবিনিও, লুকাস পাকেতা ও দানিলোর সমন্বয় বল দখল এবং আক্রমণ তৈরিতে নতুন গতি এনে দেয়। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগও অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পানামার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে ব্রাজিল। ৫৩তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। তাঁর গোলটি শুধু দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে তুলে দেয়।

রায়ানের গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৬০তম মিনিটে গোল করেন লুকাস পাকেতা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে এসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের নাম লেখান স্কোরশিটে। পাকেতার গোল পানামার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে অনেকটাই শেষ করে দেয়।

এর মাত্র তিন মিনিট পরই গোল করেন ইগর থিয়াগো। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে তিনি বল জালে পাঠান। দ্রুত দুটি গোল হজম করে পুরোপুরি চাপে পড়ে যায় পানামা। ব্রাজিলের আক্রমণের গতি তখন থামানোর মতো কোনো উত্তর ছিল না তাদের কাছে।

পানামা অবশ্য ম্যাচে একেবারে হার মেনে নেয়নি। একটি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কার্লোস হার্ভি গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান। তবে সেটি ছিল ক্ষণিকের স্বস্তি। কারণ ব্রাজিল তখনও আক্রমণের ধার ধরে রেখেছিল।

ম্যাচের ৮১তম মিনিটে দানিলো গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া দৃষ্টিনন্দন আক্রমণের সফল সমাপ্তি টানেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে, আর মারাকানার গ্যালারি উৎসবে মেতে ওঠে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৬-২ ফলাফল। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও এই জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দলের যে আধিপত্য দেখা গেছে, তা বিশ্বকাপের আগে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

তবে বড় জয় সত্ত্বেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স তাঁকে ভাবাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধের উন্নতি তাঁকে নতুন করে ভাবনার সুযোগও দিয়েছে।

আনচেলত্তি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তাঁর মনে আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে তিনি এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং দলের ভেতরে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন বিকল্প থাকার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

বিশ্বকাপে কোন ফরমেশন নিয়ে মাঠে নামবেন, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি আনচেলত্তি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি জানান, বিশ্বকাপের আগে সব পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চান না। রহস্য বজায় থাকলে আলোচনা চলবে এবং প্রতিপক্ষও পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারবে না।

এদিকে ম্যাচের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিলেন নেইমার। চোট কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তিনি মাঠে নামেননি। তবে ম্যাচের আগে ও পরে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার।

নেইমার মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মারাকানা স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দেয়। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের পরিবেশে ফিরে আসা এই ফুটবলারও হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন। তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন আগেই জানিয়েছিল, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলবেন না নেইমার। তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশাবাদী দল ও সমর্থকরা।

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের স্বল্প সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়। রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ছুটি পান তারা। এরপর বিকেলে পুরো দল আবার একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অংশ নেওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এই তারকাদের যোগদানে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে পানামার বিপক্ষে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক সফল পরীক্ষা। প্রথমার্ধের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দল যে গতিময়, আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে, তা বিশ্বকাপের আগে সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল ও কোন একাদশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের ৬ গোলের উৎসব, আনচেলত্তির কৌশলে পানামা বিধ্বস্ত

Update Time : ০১:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনার আরেকটি ঝলক দেখাল ব্রাজিল। ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ছয়টি গোলই করেছেন ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়, যা দলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য এবং গভীরতার প্রমাণ দিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। দর্শকদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্রুতগতির আক্রমণ পানামার রক্ষণভাগকে অপ্রস্তুত করে দেয় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

তবে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও ব্রাজিল খুব বেশি সময় স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। ১৪তম মিনিটে পানামা সমতায় ফেরে। একটি ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক এই গোল ব্রাজিলের রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করে।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি। আনচেলত্তি দল সাজিয়েছিলেন ৪-২-৪ ফরমেশনে। এই কৌশলে মাঝমাঠে দায়িত্বে থাকা কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়েছে। পানামা মাঝমাঠে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, কুনহা ও অন্য ফরোয়ার্ডরা সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও আক্রমণগুলো ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। উইং থেকে লম্বা পাস কিংবা উঁচু বল ভাসিয়ে আক্রমণ করার পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। নিচ থেকে গড়ে তোলা আক্রমণের ধারও ছিল সীমিত।

তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন কাসেমিরো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ একটি ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের ফলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কী বদল আনতে হবে?

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই বড় চমক দেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব একটা দেখা যায় না। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, বদলে যায় দলের কৌশলও। ৪-২-৪ থেকে দলকে ৪-৩-৩ ফরমেশনে নিয়ে আসেন ইতালিয়ান এই কোচ।

ফরমেশন পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় নাটকীয় উন্নতি দেখা যায়। মাঝমাঠে ফ্যাবিনিও, লুকাস পাকেতা ও দানিলোর সমন্বয় বল দখল এবং আক্রমণ তৈরিতে নতুন গতি এনে দেয়। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগও অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পানামার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে ব্রাজিল। ৫৩তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। তাঁর গোলটি শুধু দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে তুলে দেয়।

রায়ানের গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৬০তম মিনিটে গোল করেন লুকাস পাকেতা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে এসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের নাম লেখান স্কোরশিটে। পাকেতার গোল পানামার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে অনেকটাই শেষ করে দেয়।

এর মাত্র তিন মিনিট পরই গোল করেন ইগর থিয়াগো। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে তিনি বল জালে পাঠান। দ্রুত দুটি গোল হজম করে পুরোপুরি চাপে পড়ে যায় পানামা। ব্রাজিলের আক্রমণের গতি তখন থামানোর মতো কোনো উত্তর ছিল না তাদের কাছে।

পানামা অবশ্য ম্যাচে একেবারে হার মেনে নেয়নি। একটি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কার্লোস হার্ভি গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান। তবে সেটি ছিল ক্ষণিকের স্বস্তি। কারণ ব্রাজিল তখনও আক্রমণের ধার ধরে রেখেছিল।

আরও পড়ুন  স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমারের ফেরার ইঙ্গিত, আশাবাদী ব্রাজিল কোচ

ম্যাচের ৮১তম মিনিটে দানিলো গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া দৃষ্টিনন্দন আক্রমণের সফল সমাপ্তি টানেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে, আর মারাকানার গ্যালারি উৎসবে মেতে ওঠে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৬-২ ফলাফল। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও এই জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দলের যে আধিপত্য দেখা গেছে, তা বিশ্বকাপের আগে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

তবে বড় জয় সত্ত্বেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স তাঁকে ভাবাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধের উন্নতি তাঁকে নতুন করে ভাবনার সুযোগও দিয়েছে।

আনচেলত্তি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তাঁর মনে আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে তিনি এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং দলের ভেতরে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন বিকল্প থাকার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

বিশ্বকাপে কোন ফরমেশন নিয়ে মাঠে নামবেন, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি আনচেলত্তি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি জানান, বিশ্বকাপের আগে সব পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চান না। রহস্য বজায় থাকলে আলোচনা চলবে এবং প্রতিপক্ষও পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারবে না।

এদিকে ম্যাচের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিলেন নেইমার। চোট কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তিনি মাঠে নামেননি। তবে ম্যাচের আগে ও পরে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার।

আরও পড়ুন  ফাইনালের ৫ গুরুত্বপূর্ণ লড়াই: কারা বদলে দিতে পারে আর্জেন্টিনা–স্পেন ম্যাচের ভাগ্য?

নেইমার মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মারাকানা স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দেয়। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের পরিবেশে ফিরে আসা এই ফুটবলারও হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন। তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন আগেই জানিয়েছিল, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলবেন না নেইমার। তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশাবাদী দল ও সমর্থকরা।

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের স্বল্প সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়। রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ছুটি পান তারা। এরপর বিকেলে পুরো দল আবার একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অংশ নেওয়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এই তারকাদের যোগদানে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে পানামার বিপক্ষে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক সফল পরীক্ষা। প্রথমার্ধের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দল যে গতিময়, আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে, তা বিশ্বকাপের আগে সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল ও কোন একাদশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেন।