ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় ,ইসলামে বিয়ের ইজাব-কবুলের বিধান Logo বিদ্যুতের দর আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য, বিল বাড়ছে না Logo সুপার এল নিনো সতর্কতা: ভয়াবহ খরা ও তাপদাহের নতুন আশঙ্কা Logo খলিলুর রহমান ইউএনজিএ সভাপতি, থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও Logo অনলাইনে পার্সেল ট্র্যাকিং: ডাক সেবায় স্মার্ট সুবিধার নতুন যুগ Logo আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের ভবন উপযুক্ত নয়: তদন্তে অবহেলার প্রমাণ, কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা Logo ঢাকায় ঝড়ের পূর্বাভাস: সন্ধ্যার আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, সতর্ক বার্তা Logo বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ৯ নম্বর কে, আলভারেজ নাকি মার্তিনেজ Logo বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ করল ফিফা Logo মেসি এখনো একাকী অনুশীলনে, প্রীতি ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কা

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় ,ইসলামে বিয়ের ইজাব-কবুলের বিধান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৫০৩

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় সম্পর্কে ইসলামি ফিকহের ব্যাখ্যা | ছবি: সংগৃহীত

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায়, এ বিষয়টি অনেক মুসলমানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিস্তারিত জানা নেই। সাধারণভাবে বিয়ের সময় বর-কনেকে ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ করতে দেখা যায়। তবে ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী শুধু ‘কবুল’ বললেই যে বিয়ে সম্পন্ন হবে এমন নয়; বরং এমন আরও কিছু শব্দ ও বাক্য রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ করলে নিকাহ বৈধ ও শুদ্ধ হয়ে যায়।

ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি মানুষকে পবিত্র জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করে এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুবকদের সামর্থ্য হলে দ্রুত বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ফিকহে হানাফি মতে, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) অপরিহার্য। তবে গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ‘কবুল’ শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। যদি ইজাবের জবাবে বর বা কনে স্পষ্টভাবে সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলে সেটিও কবুল হিসেবে গণ্য হবে।

ইসলামি ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে যে, ‘ক্ববিলতু’ (আমি গ্রহণ করলাম), ‘রদ্বিতু’ (আমি রাজি হলাম), ‘তাজাওয়াজতুহা’ (আমি তাকে বিবাহ করলাম), ‘আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু’ (আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ করলাম) এবং ‘আজাযতুহু’ (আমি অনুমোদন করলাম) ইত্যাদি শব্দও কবুলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব শব্দের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ পেলে নিকাহ সহিহ বলে গণ্য হবে।

কবুল বলা ছাড়াও
কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায়

তবে বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য আরও কিছু শর্ত রয়েছে। প্রথমত, এক পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রস্তাব থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, অপর পক্ষকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যবহৃত শব্দগুলো এমন হতে হবে যাতে বিয়ের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পাশাপাশি অন্তত দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে।

আলেমদের মতে, ইজাব ও কবুলের সময় ব্যবহৃত শব্দ অবশ্যই বর্তমান কালের হতে হবে। যেমন: করলাম’, ‘গ্রহণ করলাম’ ইত্যাদি। ভবিষ্যৎ কালের শব্দ যেমন ‘করব’, ‘দেব’ বা ‘পরে গ্রহণ করব’ ব্যবহার করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। একই সঙ্গে শব্দের অর্থ স্থায়ী সম্পর্ক ও মালিকানা প্রকাশ করতে হবে। অস্থায়ী চুক্তি, ভাড়া বা ধার দেওয়ার অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

সুতরাং, ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো উভয় পক্ষের স্পষ্ট সম্মতি এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা। শুধু ‘কবুল’ শব্দ নয়, বরং অর্থগতভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্পষ্ট সম্মতিসূচক অন্যান্য শব্দের মাধ্যমেও বৈধভাবে নিকাহ সম্পন্ন করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় ,ইসলামে বিয়ের ইজাব-কবুলের বিধান

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় ,ইসলামে বিয়ের ইজাব-কবুলের বিধান

Update Time : ১১:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায়, এ বিষয়টি অনেক মুসলমানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিস্তারিত জানা নেই। সাধারণভাবে বিয়ের সময় বর-কনেকে ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ করতে দেখা যায়। তবে ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী শুধু ‘কবুল’ বললেই যে বিয়ে সম্পন্ন হবে এমন নয়; বরং এমন আরও কিছু শব্দ ও বাক্য রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ করলে নিকাহ বৈধ ও শুদ্ধ হয়ে যায়।

ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি মানুষকে পবিত্র জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করে এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুবকদের সামর্থ্য হলে দ্রুত বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন  কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ: ইসলাম কী বলে?

ফিকহে হানাফি মতে, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) অপরিহার্য। তবে গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ‘কবুল’ শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। যদি ইজাবের জবাবে বর বা কনে স্পষ্টভাবে সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলে সেটিও কবুল হিসেবে গণ্য হবে।

ইসলামি ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে যে, ‘ক্ববিলতু’ (আমি গ্রহণ করলাম), ‘রদ্বিতু’ (আমি রাজি হলাম), ‘তাজাওয়াজতুহা’ (আমি তাকে বিবাহ করলাম), ‘আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু’ (আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ করলাম) এবং ‘আজাযতুহু’ (আমি অনুমোদন করলাম) ইত্যাদি শব্দও কবুলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব শব্দের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ পেলে নিকাহ সহিহ বলে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াত আমিরের
কবুল বলা ছাড়াও
কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায়

তবে বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য আরও কিছু শর্ত রয়েছে। প্রথমত, এক পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রস্তাব থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, অপর পক্ষকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যবহৃত শব্দগুলো এমন হতে হবে যাতে বিয়ের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পাশাপাশি অন্তত দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে।

আলেমদের মতে, ইজাব ও কবুলের সময় ব্যবহৃত শব্দ অবশ্যই বর্তমান কালের হতে হবে। যেমন: করলাম’, ‘গ্রহণ করলাম’ ইত্যাদি। ভবিষ্যৎ কালের শব্দ যেমন ‘করব’, ‘দেব’ বা ‘পরে গ্রহণ করব’ ব্যবহার করলে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। একই সঙ্গে শব্দের অর্থ স্থায়ী সম্পর্ক ও মালিকানা প্রকাশ করতে হবে। অস্থায়ী চুক্তি, ভাড়া বা ধার দেওয়ার অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত প্রবাসী মামুনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সুতরাং, ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো উভয় পক্ষের স্পষ্ট সম্মতি এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা। শুধু ‘কবুল’ শব্দ নয়, বরং অর্থগতভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্পষ্ট সম্মতিসূচক অন্যান্য শব্দের মাধ্যমেও বৈধভাবে নিকাহ সম্পন্ন করা যায়।