ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায় Logo ত্বক ও চুলের যত্নে ডিম, কীভাবে ব্যবহার করবেন Logo তিলের বীজ খেলে কী হয়? জানুন বিজ্ঞান যা বলছে Logo বিশ্বকাপের নায়ক কুকুরেয়া, মাঠের বাইরের লড়াই আরও কঠিন Logo প্রথমবার প্রাকৃতিক আবাসে দেখা মিলল আর্কটিক ববটেইল স্কুইডের Logo বিশ্বকাপের সেরা ১০ তারকা প্রকাশ, শীর্ষে মেসি Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল ফের হবে? যা বললেন পোরো Logo পুরুষদের তুলনায় নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা Logo চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের শাহসুফি সৈয়্যদ মুহাম্মদ মমতাজ আলী ১৭তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত Logo বর্ষায় কোন সবজিগুলো খেলে বাড়তে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি?

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য জ্বালানি মন্ত্রীর

সংসদে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন জ্বালানি মন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিলে তার প্রধান কারণ হচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম।

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অনেক সময় মানুষ বিদ্যুৎ না থাকলেই সেটিকে লোডশেডিং হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে প্রকৃত অর্থে বিদ্যুতের উৎপাদন বা সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে সেটিকে লোডশেডিং বলা যায়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কারিগরি কারণে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে তা ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত কিংবা গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। কিন্তু সেটিকে বিদ্যুতের ঘাটতি বলা যাবে না। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন কয়েকজন সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে। তার মতে, অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রুমিন ফারহানার এ বক্তব্যের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সরকার নিয়মিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোথাও বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

অধিবেশনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রেস কাউন্সিল আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার এ বক্তব্যও সংসদে আলোচনার জন্ম দেয়।

সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, লোডশেডিং, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—জ্বালানি মন্ত্রীর এই বক্তব্যই দিনশেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Humanize 325 words
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, উঠছেন গুলশানের বাসায়

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য জ্বালানি মন্ত্রীর

Update Time : ১১:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিলে তার প্রধান কারণ হচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম।

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অনেক সময় মানুষ বিদ্যুৎ না থাকলেই সেটিকে লোডশেডিং হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে প্রকৃত অর্থে বিদ্যুতের উৎপাদন বা সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে সেটিকে লোডশেডিং বলা যায়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কারিগরি কারণে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে তা ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত কিংবা গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। কিন্তু সেটিকে বিদ্যুতের ঘাটতি বলা যাবে না। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন কয়েকজন সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে। তার মতে, অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রুমিন ফারহানার এ বক্তব্যের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সরকার নিয়মিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোথাও বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

অধিবেশনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রেস কাউন্সিল আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার এ বক্তব্যও সংসদে আলোচনার জন্ম দেয়।

সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, লোডশেডিং, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—জ্বালানি মন্ত্রীর এই বক্তব্যই দিনশেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Humanize 325 words