ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের বই জব্দ

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১১:২১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৫২৮

শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের নিয়ে লেখা ৩০০ বই জব্দ। ছবি: সংগৃহীত।

শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের নিয়ে লেখা ৩০০ বই জব্দ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে অভিযান চালিয়ে এসব বই জব্দ করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী কলেজ এলাকায় অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে তল্লাশি চালান জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে লেখা ও তাদের সম্পর্কিত প্রায় ৩০০ বই জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসব বই দেখতে পান বলে দাবি করেন। পরে তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলে পাঠাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বয়ান বা তাদের সম্পর্কিত কোনো গ্রন্থ, সাময়িকী কিংবা প্রবন্ধ সংরক্ষণ বা প্রদর্শন করা হবে না—এ মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি মুচলেকা দিয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, পাঠাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বই পাওয়া যাওয়ার পর তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিনের অভিযোগ, স্বৈরাচার পতনের পরও এসব বই পাঠাগারে থাকা উদ্বেগজনক এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হতে পারে।

তবে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, বইগুলো পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হচ্ছিল না। রাজশাহীতে আলাদা সংরক্ষণাগার না থাকায় সেগুলো বাসের ভেতরে রাখা হয়েছিল।ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের বই জব্দ

Update Time : ১১:২১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের নিয়ে লেখা ৩০০ বই জব্দ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে অভিযান চালিয়ে এসব বই জব্দ করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী কলেজ এলাকায় অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে তল্লাশি চালান জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে লেখা ও তাদের সম্পর্কিত প্রায় ৩০০ বই জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন  এনসিপি চট্টগ্রাম সমাবেশে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসব বই দেখতে পান বলে দাবি করেন। পরে তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলে পাঠাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বয়ান বা তাদের সম্পর্কিত কোনো গ্রন্থ, সাময়িকী কিংবা প্রবন্ধ সংরক্ষণ বা প্রদর্শন করা হবে না—এ মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি মুচলেকা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ: শুক্রবার ঘোষণা নিয়ে জোরালো আলোচনা

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, পাঠাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বই পাওয়া যাওয়ার পর তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিনের অভিযোগ, স্বৈরাচার পতনের পরও এসব বই পাঠাগারে থাকা উদ্বেগজনক এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হতে পারে।

তবে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, বইগুলো পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হচ্ছিল না। রাজশাহীতে আলাদা সংরক্ষণাগার না থাকায় সেগুলো বাসের ভেতরে রাখা হয়েছিল।ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  দেশে ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে আগামীকাল সন্ধ্যায়

উল্লেখ্য, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।