বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফলগুলোর মধ্যে আম অন্যতম। আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা আম খাওয়ার আগে দ্বিধায় ভোগেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
আম শুধু সুস্বাদু নয়, এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬৫-৭০ ক্যালরি এবং ১৭ গ্রাম শর্করা থাকে। একই পরিমাণ সেদ্ধ ভাতে ক্যালরি থাকে প্রায় ১২৫। ফলে ক্যালরির দিক থেকে আম ভাতের তুলনায় কম হলেও এতে রয়েছে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকালের নাশতার বিকল্প হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এটি সাধারণত দুটি বড় বা তিনটি মাঝারি আকারের আমের সমান। তবে আম খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যেমন ভাত, রুটি বা মুড়ি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
আম খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। মধ্যসকাল বা বিকেলের নাশতা হিসেবেও অল্প পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর আম খাওয়ার পরামর্শ দেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ রাতে শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা জমে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আম জুস করে খাওয়ার চেয়ে সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। এতে আঁশের পরিমাণ বজায় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও ভালো হয়। আম খাওয়ার পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর আরও ভালোভাবে শর্করা ব্যবহার করতে পারে।
তবে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। একইভাবে কিডনি রোগীদেরও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আম খাওয়া উচিত, কারণ এতে থাকা পটাশিয়াম তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে, আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ মেনে চললে এই সুস্বাদু ফলটি শরীরের জন্য উপকারী পুষ্টির উৎস হতে পারে। তাই গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল উপভোগ করুন সচেতনভাবে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে।




























