ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তার এমন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই প্রণালি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চুক্তির মধ্যস্থতায় যুক্ত থাকা পাকিস্তান জানিয়েছে যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক হলেও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচিও সম্প্রতি জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, কিছু অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর কূটনৈতিক সমাধানের এই সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। এখন বিশ্ব অপেক্ষা করছে আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য, যা অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।























