মিসৌরি বিমান দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের শোকের ঘটনা তৈরি করেছে। একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১১ জন স্কাইডাইভার এবং একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে গুরুতর প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের বাটলার এলাকায় স্থানীয় সময় রোববার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্কাইডাইভিং কার্যক্রমের জন্য উড়োজাহাজটি বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। কিন্তু আকাশে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উড়োজাহাজটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উঠতে পারেনি। এরপর হঠাৎ করে বাম দিকে তীব্রভাবে মোড় নিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিসৌরি বিমান দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা কোনো ব্যক্তি বেঁচে ফিরতে পারেননি। উদ্ধারকর্মীরা খুঁজে দেখেন, কোনো স্কাইডাইভার দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজ থেকে বের হতে পেরেছিলেন কি না। তবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন জানান, ঘটনাটি একটি বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা। তিনি বলেন, এটি কোনো যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান ছিল না; এটি ছিল স্কাইডাইভিংয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট উড়োজাহাজ।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি৭৫০ মডেলের। বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই এটি বিধ্বস্ত হয়।
এফএএর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ওই ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক ছিল না।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এখনো নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মিসৌরি বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তদন্তে সহযোগিতা করছে এফএএ। তদন্ত শেষ হলে উড়োজাহাজের যান্ত্রিক সমস্যা, আবহাওয়া পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা পরিষ্কার হতে পারে।



























