২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরুর আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক অদ্ভুত ইতিহাস। আগের দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পরের আসরে প্রথম ম্যাচে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আকাশি-সাদাদের। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেই পরিসংখ্যানই নতুন করে ভাবাচ্ছে সমর্থকদের।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আগামীকাল বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে আর্জেন্টিনা। তবে অতীতের কিছু ঘটনা এই ম্যাচকে সাধারণ একটি উদ্বোধনী ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত করে তুলেছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, শিরোপা জয়ের পরের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা কখনো কখনো বড় ধাক্কা খেয়েছে। তাই অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এবারও কি সেই একই গল্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে?
১৯৭৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু চার বছর পর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচেই তাদের হোঁচট খেতে হয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বেলজিয়াম ১-০ গোলের জয় পায়। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন বেলজিয়ান ফুটবলার এরউইন ভ্যান্ডেনবার্গ। শিরোপাধারী দল হিসেবে এমন শুরু তখন অনেককেই অবাক করেছিল।
এরপর আবারও একই চিত্র দেখা যায় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের পর পরের আসরে প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে হেরে বসে আর্জেন্টিনা।
সেই ম্যাচে আফ্রিকার দলটি ১-০ গোলের জয় তুলে নেয়। ক্যামেরুনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক। বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম বড় অঘটন হিসেবেও আজও স্মরণ করা হয় সেই ম্যাচকে।
তবে ১৯৯০ সালের সেই ধাক্কা কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। শুরুতে হেরেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কাছে হারতে হয়েছিল তাদের।
সাম্প্রতিক ইতিহাসও আর্জেন্টিনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হেরে বসেছিল লিওনেল মেসির দল।
কিন্তু সেই পরাজয় শেষ পর্যন্ত তাদের থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষারও অবসান ঘটে।
এবারও সেই দলের বড় একটি অংশ ধরে রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কাতার বিশ্বকাপ জয়ী দলের ১৭ জন খেলোয়াড়কে ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানেও ফিরেছে আর্জেন্টিনা।
তবুও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন স্কালোনি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আলজেরিয়াকে যথেষ্ট সমীহ করার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির আক্রমণভাগ নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
স্কালোনি বলেন, ‘আলজেরিয়ার আক্রমণভাগে বেশ কয়েকজন দ্রুতগতির ফুটবলার রয়েছেন, যারা যেকোনো সময় প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেন। তাই তাদের যথাযথ সম্মান দেখিয়ে সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে।’
আর্জেন্টাইন এই কোচের মতে, আলজেরিয়ার খেলার ধরনের সঙ্গে মরক্কোর কিছুটা মিল রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আলজেরিয়ার কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দেরও প্রশংসা করেছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ নিয়ে বাড়তি চাপ না নেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন স্কালোনি। তার বিশ্বাস, উদ্বোধনী ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরো টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করে না।
তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপ থেকে আমরা শিখেছি যে প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই সবকিছু নির্ধারণ করে না। তাই দল মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছে এবং কোনো অতিরিক্ত চাপ নিতে চায় না।’
এখন দেখার বিষয়, ইতিহাস আবারও আর্জেন্টিনাকে চমকে দেয় কি না। নাকি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরেকটি সফল পদক্ষেপ রাখে লিওনেল স্কালোনির দল।



























