ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত চার তরুণ আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার কংস নদের তীরে কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে অপরাধীরা তাকে কংস নদের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গোপন করতে কাদার নিচে পুঁতে রাখে।
ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা মামলার এই লোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্ত চার তরুণকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই পুরো ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিক কংস নদের পার থেকে শিশুর নিখোঁজ হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদী তলদেশ থেকে কাদার মধ্যে পুঁতা লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে শিশুটি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে না আসায় স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে নদীর একটি বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে এই মর্মান্তিক ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা কাণ্ডের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।
পুলিশ এই ঘটনার পর দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চার আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় ধোবাউড়া থানা পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। দ্রুত লাশ উদ্ধারের ফলে অপরাধীরা আলামত সম্পূর্ণ নষ্ট করার সুযোগ পায়নি, যা ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা মামলার এজাহার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তনย সাহার খাস কামরায় অভিযুক্ত চার তরুণ পর্যায়ক্রমে তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রথম দফায় গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে আরিফ মিয়া (১৯) ও রাকিব মিয়া (২১) এবং বুধবার বিকেলে মারুফ মিয়া (১৯) ও মো. সাঈম মিয়া (১৯) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা মামলার প্রধান চার আসামির অপরাধ সরাসরি আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ করা হলো যা সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এই চাঞ্চল্যকর ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এবং আইনি আপডেটের জন্য আপনি চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া ময়মনসিংহের অপরাধ ও জেলা আদালতের দৈনিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য পেতে ময়মনসিংহ জেলা তথ্য বাতায়ন পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নোটিশগুলো দেখে নিতে পারেন। ধোবাউড়ায় শিশু হত্যা মামলার মতো সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি তথ্যের উৎস জানা থাকলে অপপ্রচার রোধ করা সম্ভব হয় এবং আইনি ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায়।


























