রাফিনিয়ার চোট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার এই তারকা উইঙ্গার। তবে তাঁর বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলা নিয়ে এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি ইতালিয়ান এই কোচ।
বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। ম্যাচের ১২তম মিনিটেই জালে বল জড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় সেটি অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়ে যায়।
গোল না পাওয়ার আক্ষেপ কাটিয়ে দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি। তবে ম্যাচের ৪০তম মিনিটের আগেই পরিস্থিতি বদলে যায়। শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করার পর আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আবারও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি সেই একই জায়গা যেখানে কয়েক মাস আগেও তিনি চোট পেয়েছিলেন।
ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজ এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরোনো চোটের স্থানেই নতুন করে আঘাত পেয়েছেন রাফিনিয়া। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
গত মার্চে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল বার্সেলোনা তারকাকে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচও মিস করেছিলেন তিনি।
বিশেষ করে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি রাফিনিয়া। সেই ধাক্কা সামলে ফেরার কয়েক মাসের মধ্যেই একই জায়গায় নতুন করে চোট পাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমন পরিস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। কারণ, বর্তমান দলে আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে এখনই কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, মেডিকেল টিমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার পরই রাফিনিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, আগামীকাল রাফিনিয়ার চোট পরীক্ষা করে দেখা হবে। এই মুহূর্তে আসলে কী ঘটেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে।
ব্রাজিল শিবির এখন সেই রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে। কারণ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পাশাপাশি নকআউট পর্বের লড়াই সামনে রেখে রাফিনিয়ার উপস্থিতি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমর্থকদেরও এখন একটাই প্রশ্ন, তিনি কত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারবেন। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মেডিকেল মূল্যায়নই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় রাফিনিয়ার ভবিষ্যৎ।


























