ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বড় ঘোষণা, ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে সব জল্পনার অবসান

লিওনেল মেসি

অবশেষে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সব ধরনের জল্পনার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ এবং সপ্তমবারের মতো এই আসরে তাকে দেখা যাবে না। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো দ্বিধা না রেখেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মেসি ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। একদিন পর একই রেকর্ডে নাম লেখান পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মেসিই।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকও করেছেন মেসি। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে। এই ম্যাচের পর থেকেই নতুন করে প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার।

চার দিনের মধ্যেই ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদোর বয়স ইতোমধ্যে ৪১ বছর পেরিয়েছে। তাই দুই কিংবদন্তিকে ২০৩০ বিশ্বকাপে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলছিল।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘না, সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই। এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’ তার এই মন্তব্যের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে থাকা সব জল্পনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

এত বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন এই মহাতারকা। মেসির মতে, শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিনিয়ত নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতাই তাকে এত দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

মেসি বলেন, তিনি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছেন। নিজের শরীরকে প্রস্তুত রেখেছেন, যাতে দলকে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে পারেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলের ভেতরে থাকা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকেও তিনি সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষায়, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে কেউ কাউকে সহজে জায়গা ছেড়ে দেয় না। প্রত্যেকেই নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর এই সংস্কৃতিই দলটিকে শক্তিশালী করে তুলেছে এবং ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিয়েছে।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আয়োজন। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের অংশ হবে। মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।

বিশেষ শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ফলে ঐতিহাসিক এই আসর ঘিরে ফুটবল বিশ্বের আগ্রহ ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে।

তবে মেসি এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে রয়েছে। তাই এখন থেকে পাওয়া প্রতিটি সাফল্যকে তিনি বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

মেসি বলেন, ঈশ্বরের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। ফুটবলে যা অর্জন করার, তার প্রায় সবই তিনি পেয়েছেন। তাই এখন যা কিছু সামনে আসবে, সেগুলো তার কাছে শুধুই বোনাস।

অবসরের ইঙ্গিত দিলেও মাঠে তার ক্ষুধা কমেনি। গোল করছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন, আবার আবেগে ভাসছেনও। এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখনো মেসির দিকেই।

এরই মধ্যে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়েও শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির বড় ঘোষণা, ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে সব জল্পনার অবসান

Update Time : ১০:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

অবশেষে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সব ধরনের জল্পনার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ এবং সপ্তমবারের মতো এই আসরে তাকে দেখা যাবে না। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো দ্বিধা না রেখেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মেসি ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। একদিন পর একই রেকর্ডে নাম লেখান পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মেসিই।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকও করেছেন মেসি। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে। এই ম্যাচের পর থেকেই নতুন করে প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ফাইনাল: মেসির আর্জেন্টিনা নাকি ইয়ামালের স্পেন

চার দিনের মধ্যেই ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদোর বয়স ইতোমধ্যে ৪১ বছর পেরিয়েছে। তাই দুই কিংবদন্তিকে ২০৩০ বিশ্বকাপে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলছিল।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘না, সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই। এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’ তার এই মন্তব্যের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে থাকা সব জল্পনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

এত বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন এই মহাতারকা। মেসির মতে, শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিনিয়ত নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতাই তাকে এত দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

মেসি বলেন, তিনি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছেন। নিজের শরীরকে প্রস্তুত রেখেছেন, যাতে দলকে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে পারেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলের ভেতরে থাকা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকেও তিনি সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন  বার্সেলোনার গোলবন্যায় ভেসে গেল এলচে

তার ভাষায়, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে কেউ কাউকে সহজে জায়গা ছেড়ে দেয় না। প্রত্যেকেই নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর এই সংস্কৃতিই দলটিকে শক্তিশালী করে তুলেছে এবং ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিয়েছে।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আয়োজন। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের অংশ হবে। মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।

বিশেষ শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ফলে ঐতিহাসিক এই আসর ঘিরে ফুটবল বিশ্বের আগ্রহ ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে।

তবে মেসি এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে রয়েছে। তাই এখন থেকে পাওয়া প্রতিটি সাফল্যকে তিনি বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন  মেসির মায়ামিকে রুখে দিল এমবোলোর শেষ মুহূর্তের গোল

মেসি বলেন, ঈশ্বরের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। ফুটবলে যা অর্জন করার, তার প্রায় সবই তিনি পেয়েছেন। তাই এখন যা কিছু সামনে আসবে, সেগুলো তার কাছে শুধুই বোনাস।

অবসরের ইঙ্গিত দিলেও মাঠে তার ক্ষুধা কমেনি। গোল করছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন, আবার আবেগে ভাসছেনও। এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখনো মেসির দিকেই।

এরই মধ্যে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়েও শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন তিনি।