নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচ আজ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হয়ে উঠতে পারে। এক পাশে কমলা জার্সির নেদারল্যান্ডস, অন্য পাশে হলুদ জার্সির সুইডেন। দুই দলেরই ইতিহাস সমৃদ্ধ, তবে বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো অধরা। তাই এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারেনি। শক্তিশালী ফুটবল, বিখ্যাত খেলোয়াড় এবং দারুণ প্রজন্ম থাকার পরও শেষ ধাপে হতাশা সঙ্গী হয়েছে তাদের। সুইডেনও অতীতে বিশ্বকাপে ভালো করেছে। ১৯৫৮ সালে তারা ফাইনাল খেলেছিল, আর ১৯৯৪ সালে শেষ চার পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সুইডেন দল নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এই আসরে এসেছে।
নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচের আগে দুই দলের প্রথম ম্যাচের ফল ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস জাপানের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ড্র করেছে। এতে ডাচদের রক্ষণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে সুইডেন প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় আছে। আজ জিতলে তাদের পরের পর্বের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে।
সুইডেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। ভিক্টর ইয়োকেরেস ও আলেকজান্ডার ইসাক—দুজনই গোল করার ক্ষমতা রাখেন এবং প্রথম ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচে তাদের সামনে থাকবে কঠিন পরীক্ষা। কারণ ডাচদের রক্ষণে আছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। তাঁর সঙ্গে ফন ডেন ভেন, ডামফ্রাইস ও আকেসহ রক্ষণভাগ সুসংগঠিত থাকলে সুইডেনের জন্য গোল করা সহজ হবে না।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জন্য এই ম্যাচে মূল লক্ষ্য হবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আক্রমণে দ্রুত সুযোগ তৈরি করা। জাপানের বিপক্ষে শেষ দিকে মনোযোগ হারানোর যে সমস্যা দেখা গেছে, সেটি ঠিক করতে হবে। নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচে ডাচরা যদি শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রাখতে পারে, তাহলে সুইডেনের গতিময় আক্রমণকে কিছুটা আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে সুইডেন কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক হতে পারে।
দুই দলের বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ খুব বেশি নয়। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তারা একবার মুখোমুখি হয়েছিল এবং ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সেই ম্যাচে ইয়োহান ক্রুইফের বিখ্যাত ‘ক্রুইফ টার্ন’ ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়। আজকের নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচেও নতুন কোনো স্মরণীয় মুহূর্ত জন্ম নিতে পারে। কমলা জার্সির হাসি, নাকি হলুদ জার্সির উচ্ছ্বাস—সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় অপেক্ষা।


























