অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নতুন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জিততে পারলে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর টিকিট। তবে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি এখন বাড়তি মানসিক চাপও সামলাতে হচ্ছে দলটিকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়া ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্তে সিদ্ধান্তগুলো অন্যায়ভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ঘটনা। ম্যাচ চলাকালীন আলজেরিয়ার ফুটবলার ইব্রাহিম মাজানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান তিনি। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের শরীরে কনুই দিয়ে আঘাত করার পরও তাকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
এ ছাড়া লিওনেল মেসির একটি চ্যালেঞ্জ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আলজেরিয়া। তাদের দাবি, ডিফেন্ডার আইসা মান্ডির ওপর করা ফাউলের মতো একটি ঘটনায় মেসির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ একই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় খেলোয়াড়দের সতর্ক করা হয়।
আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে এই দুটি ঘটনাকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। এজন্য ফিফার কাছে পুরো বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে মুখ খুলেছেন আলজেরিয়ার প্রধান কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও। তিনি বলেছেন, কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই, কারণ সবাই ঘটনাগুলো দেখেছে। তার ভাষায়, মাঠে যা ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
শুধু মাঠের রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক নন, ভিএআর কর্মকর্তাদের ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্সিনিয়াকের স্বদেশি টমাস কোয়াতকোভস্কির নেতৃত্বাধীন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি। তবুও এমন অভিযোগ বড় ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মেসির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জন্যও বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা সহজ হবে না।
অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্ক দলীয় পরিবেশে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোচিং স্টাফ চাইবে এসব আলোচনা দ্রুত পেছনে ফেলে পুরো মনোযোগ অস্ট্রিয়া ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে।
কারণ বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এক মুহূর্তের মনোযোগ হারানোও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মাঠের বাইরের এই বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে জয় তুলে নেওয়াই এখন আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সেই পরীক্ষায় তারা কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

























