তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে। রোববার (২১ জুন) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। দুই দিনের এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুর সাত্তারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং পরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জন-যোগাযোগ খাতের সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং প্রবাসীদের কল্যাণ সম্পর্কেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসেপ)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের আশা, তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

























