ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যা বর্ষার শুরুতেই মশাবাহিত এই রোগটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর এই সর্বশেষ ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সবশেষ মারা যাওয়া এই দুই জনই তরুণী, যাদের বয়স ছাব্বিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে এবং তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে এবং অন্যজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
চলতি জুন মাসেই মশাবাহিত এই প্রাণঘাতী রোগে চার জনের মৃত্যু হলো এবং এ নিয়ে বছরের মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত একদিনে সর্বোচ্চ ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দেশের দক্ষিণের বরিশাল বিভাগে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৫২ জন, ঢাকার বাইরে ৪৪ জন এবং দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট ৪৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে এসেছেন।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত সর্বমোট চার হাজার নয়শত ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। অবশ্য আক্রান্তদের মধ্যে চার হাজার পাঁচশত ৬৮ জন রোগী ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর তীব্রতা থেকে বাঁচতে ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকেরা সবাইকে প্রচণ্ড জ্বরের শুরুতেই অবহেলা না করে দ্রুত প্লাটিলেট পরীক্ষা করার এবং মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।





























