আগামীকাল ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর ইউরোপের শক্তিশালী দল অস্ট্রিয়া চায় বড় চমক দেখাতে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবল দুনিয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। খুব কমবার মুখোমুখি হওয়া এই দুই দল এবারই প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে লড়তে নামছে।
এই ম্যাচকে শুধু গ্রুপ পর্বের খেলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা, বরং এটিকে ধরা হচ্ছে নকআউট পর্বের পথে বড় এক পরীক্ষা হিসেবে। দুই দলই প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। যে দল জয় পাবে, তারা গ্রুপের শীর্ষে ওঠার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। ফলে ম্যাচটি কার্যত গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৮০ সালে। সেই ম্যাচে ইতিহাস গড়েছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি করেছিলেন হ্যাটট্রিক, যা আজও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে তাঁর একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক হিসেবে স্মরণীয়। সেদিন আর্জেন্টিনা পাঁচ এক গোলে জয় পেয়েছিল।
দুই দলের দ্বিতীয় এবং শেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালে। ইতালির বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচটি শেষ হয় এক এক গোলে ড্র দিয়ে। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছিলেন হোর্হে বুরুচাগা। এরপর দীর্ঘ সময় আর মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল, ফলে এবারের লড়াইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও উত্তেজনা।
বর্তমান আর্জেন্টিনা দল দারুণ ফর্মে আছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দলটি আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া জর্ডানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে শক্ত বার্তা দিয়েছে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী হওয়ায় ম্যাচে গোলের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
কৌশলগত দিক থেকে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা সাধারণত বল দখল ও ধীরগতির আক্রমণাত্মক খেলায় দক্ষ, অন্যদিকে অস্ট্রিয়া দ্রুত প্রতিআক্রমণের ওপর নির্ভর করে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ যে দল নিতে পারবে, ম্যাচের ফল তাদের দিকেই যেতে পারে। রক্ষণভাগের ভুল এড়ানোও হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ম্যাচে বাড়তি আলোচনায় আছেন লিওনেল মেসি। তাঁর প্রতিটি পারফরম্যান্সেই উঠে আসে ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা। অনেকেই মনে করছেন, এই ম্যাচে তিনি যদি বড় পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, তবে ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবেন। অন্যদিকে ম্যারাডোনার সেই হ্যাটট্রিকের স্মৃতি আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে।
গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা প্রায় নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে চাইবে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া চাইবে বড় দলের বিপক্ষে চমক দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে। তাই ম্যাচের ফল পুরো গ্রুপের হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ইতিহাস, আবেগ ও বর্তমান ফর্ম মিলিয়ে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার এই ম্যাচটি হয়ে উঠেছে বিশেষ এক লড়াই। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছে আরেকটি স্মরণীয় রাতের জন্য। মেসি কি পারবেন ম্যারাডোনার ইতিহাসের ছায়া ছুঁতে—এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে।



























