ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা Logo ট্রাম্পের হামলা বাতিলের পরই গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে তীব্র অভিযান হুতিদের Logo ভালভের্দের চোটে রিয়ালের বড় ধাক্কা

মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তির উদ্যোগ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী — ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে আটক থাকা দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চালাবে। প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও আইনগত সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশের টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশনগুলো আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা যায়। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ বছরে কোন কোন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা থাকবে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রবাসীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় আইটি খাতসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া আলোচনায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তি এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তির উদ্যোগ

Update Time : ১০:২২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে আটক থাকা দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চালাবে। প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও আইনগত সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশের টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশনগুলো আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা যায়। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ বছরে কোন কোন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা থাকবে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রবাসীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় আইটি খাতসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া আলোচনায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তি এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।