তেলাপোকা আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি আরও জোরালো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তীব্র গরম ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও তারা রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া অভিজিৎ দিপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের মূল দাবি হলো বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ফলাফল সংক্রান্ত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর আন্দোলনটি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম চললেও কার্যকর সমাধান আসেনি। এতে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে মেডিকেল ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তাদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
‘তেলাপোকা আন্দোলন’ নামটির উৎপত্তি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের পর অভিজিৎ দিপক ‘সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেটি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং পরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। বর্তমানে সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। অন্যদিকে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।





























