যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধানের দায়িত্বও ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। এদিন রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে তিনি জানান। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তাঁর দল এখন মূল্যায়ন করছে তিনি আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। পার্লামেন্টারি দলের সদস্যদের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারণেই লেবার পার্টির নেতা হিসেবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বক্তব্যের শেষ দিকে স্টারমারের চোখে পানি দেখা যায় এবং তাঁর কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। কয়েক মাস ধরেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছিল। গত শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের উপনির্বাচনে বড় জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক বিতর্ক এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। অনেক ভোটারের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
বর্তমানে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দলটির নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। স্টারমার জানিয়েছেন, ৯ জুলাই থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তাঁর আশা, সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্টের শরৎকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত হবে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ততদিন পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।




























