ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ১৮ মৃত্যু, ভাঙছে সব রেকর্ড

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত।

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবং চরম গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য জটিলতা, দুর্ঘটনা ও ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি পারিবারিক গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ি থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি।

এদিকে বর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী ও জলাশয়ে নামার পর রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ফরাসি নাগরিক নিরাপত্তা সেবার মুখপাত্র জেরোম বোলাঞ্জার জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, কেবল নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা স্থানেই সাঁতার কাটা উচিত। তিনি গরমের সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের প্রভাবে রয়েছে। ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত এই আবহাওয়া পরিস্থিতিতে উষ্ণ বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে একটি অঞ্চলের ওপর আটকে থাকে, ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ ইউরোপে এই তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

ফ্রান্সের বর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রাজধানী প্যারিসেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

শুধু ফ্রান্স নয়, স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সান সেবাস্তিয়ানেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইতালির ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে ছাদের নিচে থাকা পাখির বাসাগুলো চুল্লির মতো গরম হয়ে যাচ্ছে। ফলে বহু পাখি মারা যাচ্ছে বা প্রাণ বাঁচাতে বাসা ছেড়ে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ১৮ মৃত্যু, ভাঙছে সব রেকর্ড

Update Time : ০৫:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবং চরম গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য জটিলতা, দুর্ঘটনা ও ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি পারিবারিক গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ি থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি।

এদিকে বর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী ও জলাশয়ে নামার পর রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে ঘোষণা, পানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ফরাসি নাগরিক নিরাপত্তা সেবার মুখপাত্র জেরোম বোলাঞ্জার জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, কেবল নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা স্থানেই সাঁতার কাটা উচিত। তিনি গরমের সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের প্রভাবে রয়েছে। ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত এই আবহাওয়া পরিস্থিতিতে উষ্ণ বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে একটি অঞ্চলের ওপর আটকে থাকে, ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ ইউরোপে এই তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন  তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর: লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

ফ্রান্সের বর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রাজধানী প্যারিসেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

শুধু ফ্রান্স নয়, স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সান সেবাস্তিয়ানেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইতালির ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বে ‘মানুষখেকো’ ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা

ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে ছাদের নিচে থাকা পাখির বাসাগুলো চুল্লির মতো গরম হয়ে যাচ্ছে। ফলে বহু পাখি মারা যাচ্ছে বা প্রাণ বাঁচাতে বাসা ছেড়ে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছে।