ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

একটি পোল্ট্রি খামারে ব্রয়লার মুরগি পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির ঈদের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন বাজারে ধারাবাহিকভাবে কমছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কয়েক মাস আগেও যেখানে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে ক্রেতাদের ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হতো, সেখানে এখন অনেক বাজারে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ব্রয়লার মুরগি অন্যতম প্রধান আমিষের উৎস। গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় দেশের অধিকাংশ পরিবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্রয়লার মুরগি রাখে। তাই এই পণ্যের দাম কমে আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত মুরগির বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে দামও বেড়ে যায়। চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছিল বলে বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়।

কিন্তু কোরবানির ঈদের পর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বাজারে গরু ও খাসির মাংসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুরগির চাহিদা কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে খামার পর্যায়ে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় সরবরাহও বেড়ে যায়। ফলে দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছু গ্রামীণ বাজারে দাম আরও কম দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কারণে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

১. কোরবানির মাংসের প্রভাব: ঈদের পর সাধারণ মানুষের ঘরে প্রচুর পরিমাণ গরু ও খাসির মাংস থাকে। অনেক পরিবার কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সেই মাংস সংরক্ষণ করে খায়। ফলে মুরগির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

চাহিদা কমলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি বাড়ানোর জন্য দাম কমাতে বাধ্য হন। এ কারণেই ঈদের পর প্রায় প্রতি বছর কিছুটা মূল্যহ্রাস দেখা যায়।

২. সরবরাহ বৃদ্ধি: পোলট্রি খাতে বর্তমানে উৎপাদন পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। খামারিরা নিয়মিত উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। বাজারে মুরগির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় দাম কমে আসছে।

৩. খামারিদের বিক্রির চাপ: ব্রয়লার মুরগি দীর্ঘদিন খামারে রাখা যায় না। নির্দিষ্ট বয়সের পর দ্রুত বাজারজাত করতে হয়। ফলে চাহিদা কমে গেলে খামারিরা কম দামেও বিক্রি করতে বাধ্য হন।

৪. বিকল্প আমিষের উপস্থিতি: ঈদের পর বাজারে গরুর মাংসের পাশাপাশি বিভিন্ন মাছের দামও কিছুটা কমেছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে বিকল্প আমিষের সুযোগ বেড়েছে। এর প্রভাবও মুরগির বাজারে পড়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাস আগের তুলনায় এখন ব্রয়লার মুরগির দাম অনেকটাই কম। কাওরান বাজার, মুগদা, শেওড়াপাড়া, যাত্রাবাড়ী, কাজীপাড়া ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতার সংখ্যা আগের তুলনায় কম। অনেকেই এখনও কোরবানির মাংস খাচ্ছেন। ফলে বিক্রি ধরে রাখতে দাম কমিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একজন বিক্রেতার ভাষায়, “ঈদের আগে যে মুরগি ২২০-২৩০ টাকা কেজি ছিল, এখন তা ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় বেশি লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

যদিও দাম কমায় সাধারণ ভোক্তারা খুশি, তবে খামারিরা এতে খুব বেশি সন্তুষ্ট নন।

খামার মালিকদের মতে, খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় এখনও অনেক বেশি। সেই তুলনায় বাজারদর কমে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

অনেক খামারি দাবি করছেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বর্তমান বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে দীর্ঘ সময় দাম কম থাকলে ছোট খামারগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

পোলট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে আবারও সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছরে ব্রয়লার মুরগির বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে।

ফেব্রুয়ারিতে কিছু অঞ্চলে দাম এক সপ্তাহে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। ব্যবসায়ীরা এর জন্য বাচ্চা মুরগির দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয়কে দায়ী করেছিলেন।

মার্চ মাসে রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২৩০ টাকায় পৌঁছে যায়। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।

পরবর্তীতে রমজান ও ঈদের বাজার পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

দাম কমায় সবচেয়ে বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

অনেক ক্রেতা বলছেন, গত কয়েক মাসে মুরগির দাম এত বেশি ছিল যে নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দাম কিছুটা কমায় পরিবারের খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হচ্ছে।

বিশেষ করে শহুরে পরিবারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য হওয়ায় এর দাম কমার প্রভাব সরাসরি সংসারের খরচে পড়ে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ দাম তুলনামূলক কম থাকতে পারে। কারণ এখনও অনেক পরিবারের কাছে কোরবানির মাংস রয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—

  • খামার পর্যায়ে উৎপাদন পরিস্থিতি
  • মুরগির খাদ্যের মূল্য
  • পরিবহন ব্যয়
  • বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি বা হ্রাস
  • বাচ্চা মুরগির সরবরাহ

যদি উৎপাদন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বর্তমান দাম কিছুদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষ যখন চাপে রয়েছে, তখন ব্রয়লার মুরগির দাম কমে আসা একটি ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমিষের অন্যতম সহজলভ্য উৎস হওয়ায় এই মূল্যহ্রাস সরাসরি সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ব্রয়লার মুরগির বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তাতে একদিকে যেমন ভোক্তারা সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, কোরবানির পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম দেশের লাখো পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। বাজারে এই ইতিবাচক ধারা কতদিন বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

Update Time : ১১:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কোরবানির ঈদের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন বাজারে ধারাবাহিকভাবে কমছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কয়েক মাস আগেও যেখানে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে ক্রেতাদের ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হতো, সেখানে এখন অনেক বাজারে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ব্রয়লার মুরগি অন্যতম প্রধান আমিষের উৎস। গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় দেশের অধিকাংশ পরিবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্রয়লার মুরগি রাখে। তাই এই পণ্যের দাম কমে আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত মুরগির বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে দামও বেড়ে যায়। চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছিল বলে বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়।

কিন্তু কোরবানির ঈদের পর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বাজারে গরু ও খাসির মাংসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুরগির চাহিদা কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে খামার পর্যায়ে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় সরবরাহও বেড়ে যায়। ফলে দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছু গ্রামীণ বাজারে দাম আরও কম দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কারণে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাক রপ্তানিকারদের বৈঠক

১. কোরবানির মাংসের প্রভাব: ঈদের পর সাধারণ মানুষের ঘরে প্রচুর পরিমাণ গরু ও খাসির মাংস থাকে। অনেক পরিবার কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সেই মাংস সংরক্ষণ করে খায়। ফলে মুরগির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

চাহিদা কমলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি বাড়ানোর জন্য দাম কমাতে বাধ্য হন। এ কারণেই ঈদের পর প্রায় প্রতি বছর কিছুটা মূল্যহ্রাস দেখা যায়।

২. সরবরাহ বৃদ্ধি: পোলট্রি খাতে বর্তমানে উৎপাদন পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। খামারিরা নিয়মিত উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। বাজারে মুরগির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় দাম কমে আসছে।

৩. খামারিদের বিক্রির চাপ: ব্রয়লার মুরগি দীর্ঘদিন খামারে রাখা যায় না। নির্দিষ্ট বয়সের পর দ্রুত বাজারজাত করতে হয়। ফলে চাহিদা কমে গেলে খামারিরা কম দামেও বিক্রি করতে বাধ্য হন।

৪. বিকল্প আমিষের উপস্থিতি: ঈদের পর বাজারে গরুর মাংসের পাশাপাশি বিভিন্ন মাছের দামও কিছুটা কমেছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে বিকল্প আমিষের সুযোগ বেড়েছে। এর প্রভাবও মুরগির বাজারে পড়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাস আগের তুলনায় এখন ব্রয়লার মুরগির দাম অনেকটাই কম। কাওরান বাজার, মুগদা, শেওড়াপাড়া, যাত্রাবাড়ী, কাজীপাড়া ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতার সংখ্যা আগের তুলনায় কম। অনেকেই এখনও কোরবানির মাংস খাচ্ছেন। ফলে বিক্রি ধরে রাখতে দাম কমিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একজন বিক্রেতার ভাষায়, “ঈদের আগে যে মুরগি ২২০-২৩০ টাকা কেজি ছিল, এখন তা ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় বেশি লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

আরও পড়ুন  বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক: টেকসই উন্নয়নে ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার

যদিও দাম কমায় সাধারণ ভোক্তারা খুশি, তবে খামারিরা এতে খুব বেশি সন্তুষ্ট নন।

খামার মালিকদের মতে, খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় এখনও অনেক বেশি। সেই তুলনায় বাজারদর কমে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

অনেক খামারি দাবি করছেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বর্তমান বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে দীর্ঘ সময় দাম কম থাকলে ছোট খামারগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

পোলট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে আবারও সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছরে ব্রয়লার মুরগির বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে।

ফেব্রুয়ারিতে কিছু অঞ্চলে দাম এক সপ্তাহে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। ব্যবসায়ীরা এর জন্য বাচ্চা মুরগির দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয়কে দায়ী করেছিলেন।

মার্চ মাসে রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২৩০ টাকায় পৌঁছে যায়। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।

পরবর্তীতে রমজান ও ঈদের বাজার পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

দাম কমায় সবচেয়ে বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

অনেক ক্রেতা বলছেন, গত কয়েক মাসে মুরগির দাম এত বেশি ছিল যে নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দাম কিছুটা কমায় পরিবারের খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৯৯ টাকা , কখন কমবে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশেষ করে শহুরে পরিবারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য হওয়ায় এর দাম কমার প্রভাব সরাসরি সংসারের খরচে পড়ে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ দাম তুলনামূলক কম থাকতে পারে। কারণ এখনও অনেক পরিবারের কাছে কোরবানির মাংস রয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—

  • খামার পর্যায়ে উৎপাদন পরিস্থিতি
  • মুরগির খাদ্যের মূল্য
  • পরিবহন ব্যয়
  • বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি বা হ্রাস
  • বাচ্চা মুরগির সরবরাহ

যদি উৎপাদন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বর্তমান দাম কিছুদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষ যখন চাপে রয়েছে, তখন ব্রয়লার মুরগির দাম কমে আসা একটি ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমিষের অন্যতম সহজলভ্য উৎস হওয়ায় এই মূল্যহ্রাস সরাসরি সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ব্রয়লার মুরগির বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তাতে একদিকে যেমন ভোক্তারা সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, কোরবানির পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম দেশের লাখো পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। বাজারে এই ইতিবাচক ধারা কতদিন বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।