কঙ্গনা রনৌত আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং নিজের জীবনের উপলব্ধি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করে। নতুন ছবি ভারত ভাগ্য বিধাতা মুক্তির পর প্রচারণায় এসে অভিনেত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের জগতের মানুষ বাস্তব জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তাঁর ভাষায়, “আমরা জানি না, আসলে জীবনে কীভাবে বাঁচতে হয়।” এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বলিউড অভিনেত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌতের নতুন সিনেমা ভারত ভাগ্য বিধাতা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার সময় কামা হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীদের সাহসিকতার গল্প নিয়ে নির্মিত। ছবিতে তিনি একজন নার্সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, তবুও ছবির বিষয়বস্তু এবং কঙ্গনার বক্তব্য দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ছে।
প্রচার অনুষ্ঠানে কঙ্গনা বলেন, দীর্ঘদিন অভিনয় জগতে থাকার কারণে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিল্পীদের দূরত্ব তৈরি হয়। তবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি সাধারণ মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। তাঁর মতে, কেবল অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে এমন চরিত্র বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, বাস্তব জীবনকে বুঝতেও হয়।
এই ছবির প্রস্তুতির সময় কঙ্গনা হাসপাতালের নার্সদের কর্মজীবন কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মনে করেন, চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের পোশাক ও কর্মপরিবেশে স্বাধীনতা অনেক কম। এখনও ব্রিটিশ আমলের ধাঁচের ইউনিফর্ম ব্যবহার করতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ব্যক্তিগত মত হলো, আধুনিক সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নার্সদের পোশাকে পরিবর্তন আনা উচিত এবং সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ থাকা প্রয়োজন।
শুধু পোশাক নয়, নার্সিং পেশার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলানোর আহ্বান জানান কঙ্গনা। তিনি বলেন, হাসপাতালে সফল চিকিৎসার পেছনে শুধু চিকিৎসক নন, হাজার হাজার নার্স, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এই ছবির মাধ্যমে সেই অজানা নায়কদের গল্পই দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছবির নাম নিয়েও একটি মজার ঘটনা শোনান কঙ্গনা। শুরুতে ছবিটির নাম ছিল ‘নার্সেস অব কামা’। পরে তাঁর পরামর্শেই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। তবে এই নামটি আগে থেকেই অভিনেতা জন আব্রাহামের নামে নিবন্ধিত ছিল। কঙ্গনা জানান, তিনি জন আব্রাহামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই নামটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। তাঁর এই সহযোগিতার প্রশংসাও করেন কঙ্গনা।
কঙ্গনা ২৬/১১ হামলার রাতের স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি জানান, সেদিন সহশিল্পীদের সঙ্গে একটি পার্টিতে ছিলেন। পরিচালক মহেশ ভাট সেখানে এসে টেলিভিশন চালাতে বলেন। খবর দেখে সবাই হতবাক হয়ে যান। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
মনোজ তাপাড়িয়া পরিচালিত ভারত ভাগ্য বিধাতা ছবিতে কঙ্গনা রনৌতের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে, অমৃতা নামদেব, ঈশা দে, প্রিয়া বের্ডে, আশা শেলার, সুহিতা ঠাট্টে, রসিকা আঘাসে, আদিত্য মিশ্র ও জাহিদ খান। ছবির বড় একটি অংশ বাস্তব লোকেশন কামা হাসপাতালে ধারণ করা হয়েছে, যা গল্পকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।




























