ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হয়ে টিকে আছে বেলা বিস্কুট Logo দুধ গরম হলে উপচে পড়ে, কিন্তু পানি পড়ে না কেন? Logo ডিম আগে, না মুরগি আগে? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা Logo দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন Logo জ্বালানি-বিদ্যুৎ বেসরকারীকরণ না করার দাবি Logo ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশি: সিলেটের ১১ জন, ফিরছেন দেশে Logo ফ্যাব্রিজিও রোমানো: ‘হেয়ার উই গো’ অধ্যায়ে আসছে বড় পরিবর্তন Logo এনজো ফার্নান্দেজ: চেলসির বড় দাম, সিটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ Logo গোল্ডেন এ প্লাস: অভাবকে জয় করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন জাহিদের Logo চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে

ইরানের অপেক্ষা বাড়াল ভিএআর, নকআউটে মিশর

ইরান ও মিশরের রোমাঞ্চকর লড়াই। ছবি: সংগৃহীত

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। সমতায় ফেরার পর ইরান পুরো তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ় পারফরম্যান্সে বারবার হতাশ হতে হয় ইরানের ফরোয়ার্ডদের। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক সেভ করে দলের জন্য মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন শোবের।

অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে তুলে নিয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সালাহ মাঠ ছাড়লেও মিশরের রক্ষণভাগ নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে এবং ইরানের আক্রমণ সামাল দিতে সক্ষম হয়।

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ইরানের স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি একাধিক সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। একটি শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরে সাঈদ এজাতোলাহির নেওয়া শটও পোস্টে প্রতিহত হয়। একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচে জয় অধরাই থেকে যায় ইরানের।

সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে খলিলজাদেহ বল জালে জড়িয়ে ইরান শিবিরে উল্লাসের সৃষ্টি করেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকরা জয়ের আনন্দে মেতে উঠলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) গোলটি পর্যালোচনা করে। দীর্ঘক্ষণ যাচাই-বাছাইয়ের পর অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং গোল বাতিল হয়ে যায়। মুহূর্তেই আনন্দ বদলে যায় হতাশায়।

এই ড্রয়ের ফলে মিশর পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। শেষ ৩২-এ আফ্রিকার প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে একই সময়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বেলজিয়াম সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠে যায়।

ইরানের জন্য অবশ্য সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখন নকআউটে উঠতে হলে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা করতে পারলেই কেবল শেষ ৩২-এর টিকিট মিলবে। তাই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে এখন অন্য ম্যাচগুলোর ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল নকআউট নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা ও রক্ষণভাগের শৃঙ্খলাকে তিনি প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ইরানের কোচ সুযোগ নষ্ট হওয়াকে দলের জন্য বড় আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ম্যাচে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি ছিল কৌশল, ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তার এক দারুণ লড়াই। মিশর রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করেছে, আর ইরান ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তের দুর্ভাগ্য ও ভিএআরের সিদ্ধান্তে জয়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে নকআউট পর্বে, যেখানে মিশর নতুন চ্যালেঞ্জে মাঠে নামবে এবং ইরান অপেক্ষা করবে অন্য গ্রুপের সমীকরণের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হয়ে টিকে আছে বেলা বিস্কুট

ইরানের অপেক্ষা বাড়াল ভিএআর, নকআউটে মিশর

Update Time : ১১:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। সমতায় ফেরার পর ইরান পুরো তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ় পারফরম্যান্সে বারবার হতাশ হতে হয় ইরানের ফরোয়ার্ডদের। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক সেভ করে দলের জন্য মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন শোবের।

অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে তুলে নিয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সালাহ মাঠ ছাড়লেও মিশরের রক্ষণভাগ নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে এবং ইরানের আক্রমণ সামাল দিতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন  বার্সা ছাড়তে চান তোরেস, পিএসজিতে যাওয়ার জোর গুঞ্জন

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ইরানের স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি একাধিক সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। একটি শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরে সাঈদ এজাতোলাহির নেওয়া শটও পোস্টে প্রতিহত হয়। একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচে জয় অধরাই থেকে যায় ইরানের।

সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে খলিলজাদেহ বল জালে জড়িয়ে ইরান শিবিরে উল্লাসের সৃষ্টি করেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকরা জয়ের আনন্দে মেতে উঠলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) গোলটি পর্যালোচনা করে। দীর্ঘক্ষণ যাচাই-বাছাইয়ের পর অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং গোল বাতিল হয়ে যায়। মুহূর্তেই আনন্দ বদলে যায় হতাশায়।

এই ড্রয়ের ফলে মিশর পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। শেষ ৩২-এ আফ্রিকার প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে একই সময়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বেলজিয়াম সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠে যায়।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ হেরেই চাকরি হারালেন তিউনিসিয়ার কোচ

ইরানের জন্য অবশ্য সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখন নকআউটে উঠতে হলে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা করতে পারলেই কেবল শেষ ৩২-এর টিকিট মিলবে। তাই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে এখন অন্য ম্যাচগুলোর ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল নকআউট নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা ও রক্ষণভাগের শৃঙ্খলাকে তিনি প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ইরানের কোচ সুযোগ নষ্ট হওয়াকে দলের জন্য বড় আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ম্যাচে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি ছিল কৌশল, ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তার এক দারুণ লড়াই। মিশর রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করেছে, আর ইরান ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তের দুর্ভাগ্য ও ভিএআরের সিদ্ধান্তে জয়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে নকআউট পর্বে, যেখানে মিশর নতুন চ্যালেঞ্জে মাঠে নামবে এবং ইরান অপেক্ষা করবে অন্য গ্রুপের সমীকরণের দিকে।