খিলগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তিলপাপাড়া এলাকার লাকি ফার্মেসির সামনে ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হন খিলগাঁও মডেল কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সৌরভ শাহরিয়ার (১৮)। ঘটনার পর তাকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌরভ তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলপাপাড়া এলাকার লাকি ফার্মেসির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেখানে এসে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র বের করে সৌরভের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় সৌরভকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাম কাঁধে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করার চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আহত সৌরভকে প্রথমে স্থানীয় মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাঁধে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে আরাফাত, ফাতিন ও সোলেমান নামে কয়েকজন যুবক ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বের কোনো বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব অথবা তাৎক্ষণিক বাকবিতণ্ডার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
খিলগাঁও মডেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। হামলার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সৌরভের শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে তার সুস্থ হতে কিছু সময় লাগতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


























