অনেকেই মনে করেন, নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রধান কারণ হলো গরম আবহাওয়া, শুষ্ক পরিবেশ বা অ্যালার্জি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতিও এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে নাকের ভেতরের সংবেদনশীল টিস্যু শুকিয়ে যায়, ফলে ছোট ছোট রক্তনালী সহজেই ফেটে গিয়ে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
নাকের ভেতরে অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল একটি আস্তরণ থাকে, যেখানে অসংখ্য ক্ষুদ্র রক্তনালী রয়েছে। এই অংশটি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা দরকার। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে নাকের ভেতরের টিস্যু শুকিয়ে যায়, পাতলা হয়ে পড়ে এবং সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন সামান্য হাঁচি, নাক ঝাড়া বা হালকা ঘষাতেই রক্তপাত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ বুঝতে পারেন না। অথচ এটি শুধু নাক নয়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যেসব কারণে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে
নিচের পরিস্থিতিতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে—
- গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকা
- দীর্ঘ সময় ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করা
- জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা
- দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে থাকা
- অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে অবস্থান করা
গবেষণায় কী বলা হয়েছে?
স্ট্যাটপার্লসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শরীর থেকে যতটা তরল বেরিয়ে যায়, তার তুলনায় কম তরল গ্রহণ করলে ডিহাইড্রেশন হয়। এর লক্ষণ হালকা তৃষ্ণা থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। তবে গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা অসুস্থতার সময় পানির চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রতিরোধে যা করবেন
ডিহাইড্রেশনজনিত নাকের রক্তপাত এড়াতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে—
- সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- গরমে বা অসুস্থ থাকলে পানির পরিমাণ বাড়ান।
- নাকের ভেতর আর্দ্র রাখতে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করুন।
- প্রয়োজনে নাকের ভেতরে অল্প পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন।
- ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
- অকারণে নাক খোঁটা বা অতিরিক্ত জোরে নাক ঝাড়া থেকে বিরত থাকুন।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়া কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- ২০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে
- মাথা বা নাকে গুরুতর আঘাতের পর রক্ত পড়া শুরু হলে
- রক্তপাতের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি হলে
- কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে সব সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যদি এর পেছনে শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, তাহলে পর্যাপ্ত পানি পান, নাকের সঠিক যত্ন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

























