মাইকেল বায়োপিক বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক এই সিনেমা বিশ্বজুড়ে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে বায়োপিক ঘরানার সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রেকর্ডধারী ‘ওপেনহেইমার’-কে পেছনে ফেলেছে ছবিটি। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের আগ্রহ এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বক্স অফিসে এর অসাধারণ সাফল্যের পথ তৈরি করেছে।
এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাপী মুক্তির পর থেকেই ‘মাইকেল’ একের পর এক রেকর্ড গড়তে শুরু করে। উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে ছবিটি আয় করেছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৬০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। ফলে বৈশ্বিক আয় পৌঁছেছে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা বায়োপিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিক ছিল ‘ওপেনহেইমার’। পরমাণু বোমার জনক জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের জীবন নিয়ে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক আয় ছিল ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া সংগীতশিল্পীদের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে শীর্ষে ছিল ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’, যার আয় ছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার। ‘মাইকেল’ এই দুটি আলোচিত চলচ্চিত্রকেই আয় ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকুয়া। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার বাস্তব জীবনের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। এটি তার অভিনয়জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র। সিনেমায় মাইকেলের শৈশব, ‘দ্য জ্যাকসন ৫’-এর সদস্য হিসেবে তার উত্থান এবং পরবর্তীতে বিশ্বসংগীতের ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে তার মঞ্চ পরিবেশনা এবং জনপ্রিয় গানগুলোর পুনর্নির্মাণ।
তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়েছে ‘মাইকেল’। অনেক সমালোচকের দাবি, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো ছবিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা না থাকায় কেউ কেউ এটিকে একটি পরিশোধিত বা বিতর্কমুক্ত উপস্থাপনা বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও নির্মাতারা বরাবরই জোর দিয়েছেন শিল্পীর সংগীতজীবন ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের ওপর।
‘মাইকেল’ শুধু বায়োপিক নয়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেটের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’-এর দখলে। বক্স অফিসে অভাবনীয় এই সাফল্যের পর স্টুডিও ইতোমধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে আরও একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ‘মাইকেল বায়োপিক’ এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত সাফল্যের গল্প।
























