ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক বছরের জন্য বন্ধ দাতব্য সংস্থা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে দাতব্য সংস্থা আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের পর সংস্থাটির কার্যক্রম এক বছরের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি সামরিক যান নাবলুস শহরের সুফিয়ান স্ট্রিট ও আল-আদল স্ট্রিটে প্রবেশ করে। পরে তারা আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রধান কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায়।

কার্যালয়ে তল্লাশি, জব্দ করা হয় নথিপত্র:

স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় সেনারা সংস্থার অফিসে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং কম্পিউটার, প্রশাসনিক নথিপত্র ও বিভিন্ন ফাইল পরীক্ষা করে। কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযান শেষে সংস্থার দরজায় এক বছরের জন্য কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশসংবলিত সামরিক নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে বাড়ছে অভিযান:

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নাবলুস, জেনিন, তুলকারেম ও আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি ও সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব অভিযানকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

মানবিক কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা:

আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে নাবলুসে দরিদ্র পরিবার, এতিম শিশু, শিক্ষার্থী এবং অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সেবা দিয়ে আসছে। সংস্থাটি শিক্ষা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করত।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো সুবিধাভোগী পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এক বছরের জন্য কার্যক্রম বন্ধ:

অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক নথিপত্র পরীক্ষা করে। পরে সংস্থাটির কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।

আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংস্থাটি শিক্ষা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

শরণার্থী শিবিরেও অভিযান:

একই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সেনারা নাবলুসের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বালাতাআসকার শরণার্থী শিবিরেও তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনারা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়, বাড়িঘরে তল্লাশি চালায় এবং কয়েক ঘণ্টা এলাকায় টহল জোরদার রাখে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত, গ্রেপ্তার বা বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

কেন বাড়ছে এসব অভিযান:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নাবলুস, জেনিন, তুলকারেম, হেবরন ও রামাল্লাহ অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম প্রতিরোধের অংশ। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বহুবার পশ্চিম তীরে বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনের ওপর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে।

এদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি কবে বা কোন শর্তে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক বছরের জন্য বন্ধ দাতব্য সংস্থা

Update Time : ০৩:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে দাতব্য সংস্থা আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের পর সংস্থাটির কার্যক্রম এক বছরের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি সামরিক যান নাবলুস শহরের সুফিয়ান স্ট্রিট ও আল-আদল স্ট্রিটে প্রবেশ করে। পরে তারা আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রধান কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায়।

কার্যালয়ে তল্লাশি, জব্দ করা হয় নথিপত্র:

স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় সেনারা সংস্থার অফিসে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং কম্পিউটার, প্রশাসনিক নথিপত্র ও বিভিন্ন ফাইল পরীক্ষা করে। কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযান শেষে সংস্থার দরজায় এক বছরের জন্য কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশসংবলিত সামরিক নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: খসড়ায় ঐকমত্যের ইঙ্গিত

পশ্চিম তীরে বাড়ছে অভিযান:

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নাবলুস, জেনিন, তুলকারেম ও আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি ও সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব অভিযানকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

মানবিক কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা:

আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে নাবলুসে দরিদ্র পরিবার, এতিম শিশু, শিক্ষার্থী এবং অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সেবা দিয়ে আসছে। সংস্থাটি শিক্ষা সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করত।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো সুবিধাভোগী পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এক বছরের জন্য কার্যক্রম বন্ধ:

অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক নথিপত্র পরীক্ষা করে। পরে সংস্থাটির কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ!

আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংস্থাটি শিক্ষা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

শরণার্থী শিবিরেও অভিযান:

একই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সেনারা নাবলুসের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বালাতাআসকার শরণার্থী শিবিরেও তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনারা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়, বাড়িঘরে তল্লাশি চালায় এবং কয়েক ঘণ্টা এলাকায় টহল জোরদার রাখে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত, গ্রেপ্তার বা বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

কেন বাড়ছে এসব অভিযান:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নাবলুস, জেনিন, তুলকারেম, হেবরন ও রামাল্লাহ অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মিয়ানমারে নির্বাচনের আড়ালে সহিংসতা, সেনাবাহিনীর হাতে নিহত শত শত মানুষ

ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম প্রতিরোধের অংশ। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বহুবার পশ্চিম তীরে বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনের ওপর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে।

এদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি কবে বা কোন শর্তে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।