ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান Logo বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চট্টগ্রামের অধীনে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

নোটিশ ছাড়াই গুজরাটে ৩ মসজিদ ভাঙা, ক্ষোভে মুসলিম সংগঠন

গুজরাটের কুচ জেলায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত ।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির মুসলমানদের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সোমবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট জানায়, প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।

তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদও রয়েছে। মসজিদের খাদেমের দাবি, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিল।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, অভিযানে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক অবকাঠামোও অপসারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা, উচ্ছেদ, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

নোটিশ ছাড়াই গুজরাটে ৩ মসজিদ ভাঙা, ক্ষোভে মুসলিম সংগঠন

Update Time : ০৯:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির মুসলমানদের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সোমবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট জানায়, প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য

ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।

তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদও রয়েছে। মসজিদের খাদেমের দাবি, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিল।

আরও পড়ুন  ৯ জুলাই খামেনির দাফন, শেষ বিদায়ে ২ কোটি মানুষের প্রস্তুতি

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, অভিযানে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক অবকাঠামোও অপসারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এর বিশেষ সুযোগের মেয়াদ বাড়ল ২০২৬ পর্যন্ত

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা, উচ্ছেদ, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।