ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি অনুমোদন Logo আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি Logo দীপিকা-ক্যাটরিনাকে পেছনে ফেলে আলিয়ার নতুন রেকর্ড, চমকে গেল বলিউড Logo দোষ কি গোলরক্ষকদের, নাকি বিশ্বকাপের নতুন বলের? Logo ফোয়েবি ব্রিজার্সের দারুণ প্রত্যাবর্তন, আসছে নতুন অ্যালবাম Logo লিওনেল মেসি স্পাইডার-ম্যান প্রচারণায়, পারিশ্রমিক শুনে চোখ কপালে! Logo ম্যাচের আগেই মেসিকে হারিয়ে দিলেন এক প্রেসিডেন্ট! কী বললেন তিনি? Logo সময় রায়না ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নেটফ্লিক্সে দারুণ প্রত্যাবর্তন Logo শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে?

নোটিশ ছাড়াই গুজরাটে ৩ মসজিদ ভাঙা, ক্ষোভে মুসলিম সংগঠন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

গুজরাটের কুচ জেলায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত ।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির মুসলমানদের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সোমবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট জানায়, প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।

তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদও রয়েছে। মসজিদের খাদেমের দাবি, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিল।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, অভিযানে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক অবকাঠামোও অপসারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা, উচ্ছেদ, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

নোটিশ ছাড়াই গুজরাটে ৩ মসজিদ ভাঙা, ক্ষোভে মুসলিম সংগঠন

Update Time : ০৯:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির মুসলমানদের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সোমবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট জানায়, প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ব্রিটিশ রাজনীতিতে চমক, পদত্যাগের ঘোষণা কিয়ের স্টারমারের

ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।

তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদও রয়েছে। মসজিদের খাদেমের দাবি, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিল।

আরও পড়ুন  কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, অভিযানে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক অবকাঠামোও অপসারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারতে মুসলিমদের ওপর চাপ বাড়ছে, দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা, উচ্ছেদ, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।