ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দারুণ অফার: বিশ্বকাপে লাল কার্ডে ফ্রি পিৎজা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকরা Logo জাপানের পাঁচ টহল বোট বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত, সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন শক্তি Logo হাইকোর্টে একদিনে ২ হাজার ৪১১ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি, বিশেষ কার্যক্রমে দ্রুত বিচার Logo যে তিন বিষয়ে মহানবী (সা.) শপথ করেছেন Logo বড় অংকের জরিমানার মুখে গুগল হতে যাচ্ছে Logo নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন শাকিব, ফিরছেন ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে Logo ড্রোন কীভাবে যুদ্ধের নিয়ম বদলে দুর্বলকেও শক্তিশালী করছে Logo তেজগাঁও বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘প্রজেক্ট বর্ণমালা’র শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ Logo গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিল চীন? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর নথি Logo শাকিব খান দুর্দান্ত চমকে নতুন সিনেমার ঘোষণা

গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিল চীন? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর নথি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

রুশ সেনাদের জন্য চীনের সামরিক প্রশিক্ষণ। ছবি: সংগৃহীত।

রাশিয়ার সেনাদের গত বছর গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। তাদের হাতে আসা গোপন নথি ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের অনুমোদনে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এতে দুই দেশের অন্তত চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন বলে জানা গেছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে এমন উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণ শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, তাদের কৌশলগত সহযোগিতার গভীরতাও তুলে ধরে। বিশেষ করে যুদ্ধসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে এই সহযোগিতা ইউরোপের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তবে বেইজিং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

রয়টার্সের হাতে আসা একটি গোপন রুশ সামরিক নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলকে চীনে পাঠানো হয়, যেখানে তারা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেইজিংয়ের একটি সামরিক কেন্দ্রে নভেম্বরে টানা তিন সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক (আরসিবি) সুরক্ষা এবং এসব হুমকি মোকাবিলার কৌশল।

আরও দুটি সামরিক নথিতে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ ও কয়েকটি ছবি রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, চীনা প্রশিক্ষকরা রুশ সেনাদের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পাঠ দিচ্ছেন। পারমাণবিক চুল্লির মডেল ব্যবহার করে তাদের তেজস্ক্রিয় দূষণ শনাক্তকরণ, রাসায়নিক নজরদারি এবং দূষিত পরিবেশে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষার কৌশল শেখানো হয়।

ইউরোপের একজন কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ সামরিক মহড়ার তুলনায় এই ধরনের প্রশিক্ষণ অনেক বেশি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

রয়টার্স জানায়, গত মাসেও তারা ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির ভিত্তিতে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের কয়েকজন পরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন।

সেই প্রতিবেদন নিয়ে ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করে রুশ কর্তৃপক্ষ। একইভাবে বেইজিংও ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো পক্ষের সামরিক সহায়তাকারী নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস গত ১৫ জুন জানান, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের তথ্য যাচাই করেছে। এখন বিষয়টির সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কায়া কালাসের বক্তব্যের পর চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘স্রেফ অপবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে পুনরায় দাবি করে, ইউক্রেন সংকটে তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন জোটের নেতারা।

রাশিয়াকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে অনেক কর্মকর্তার মতে, কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে চীনকে মূল্যায়ন করলে বর্তমান বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হবে না।

ব্রাসেলসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এখন সময় এসেছে চীনকে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য ‘নির্ণায়ক সহায়তাকারী’ হিসেবেও মূল্যায়ন করার। তার মতে, ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতেই এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। চুক্তিতে রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দায়ুন স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ পুরো ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনের কাছ থেকে রুশ সেনাবাহিনীর শেখার মতো তেমন কিছু নেই।

তবে রয়টার্সের হাতে আসা রুশ সামরিক নথিতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে চীনের আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, উন্নত সিমুলেটর এবং প্রশিক্ষকদের উচ্চমানের তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় চীনের সীমাবদ্ধতা এখনও রয়ে গেছে।

নথিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামও রয়েছে। রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ, যিনি রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ। এছাড়া চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুন এবং রাশিয়ার মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দারুণ অফার: বিশ্বকাপে লাল কার্ডে ফ্রি পিৎজা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকরা

গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিল চীন? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর নথি

Update Time : ১০:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার সেনাদের গত বছর গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। তাদের হাতে আসা গোপন নথি ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের অনুমোদনে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এতে দুই দেশের অন্তত চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন বলে জানা গেছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে এমন উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণ শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, তাদের কৌশলগত সহযোগিতার গভীরতাও তুলে ধরে। বিশেষ করে যুদ্ধসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে এই সহযোগিতা ইউরোপের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তবে বেইজিং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

রয়টার্সের হাতে আসা একটি গোপন রুশ সামরিক নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলকে চীনে পাঠানো হয়, যেখানে তারা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেইজিংয়ের একটি সামরিক কেন্দ্রে নভেম্বরে টানা তিন সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক (আরসিবি) সুরক্ষা এবং এসব হুমকি মোকাবিলার কৌশল।

আরও দুটি সামরিক নথিতে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ ও কয়েকটি ছবি রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, চীনা প্রশিক্ষকরা রুশ সেনাদের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পাঠ দিচ্ছেন। পারমাণবিক চুল্লির মডেল ব্যবহার করে তাদের তেজস্ক্রিয় দূষণ শনাক্তকরণ, রাসায়নিক নজরদারি এবং দূষিত পরিবেশে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষার কৌশল শেখানো হয়।

ইউরোপের একজন কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ সামরিক মহড়ার তুলনায় এই ধরনের প্রশিক্ষণ অনেক বেশি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

রয়টার্স জানায়, গত মাসেও তারা ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির ভিত্তিতে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের কয়েকজন পরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন।

সেই প্রতিবেদন নিয়ে ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করে রুশ কর্তৃপক্ষ। একইভাবে বেইজিংও ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো পক্ষের সামরিক সহায়তাকারী নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস গত ১৫ জুন জানান, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের তথ্য যাচাই করেছে। এখন বিষয়টির সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কায়া কালাসের বক্তব্যের পর চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘স্রেফ অপবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে পুনরায় দাবি করে, ইউক্রেন সংকটে তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন জোটের নেতারা।

রাশিয়াকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে অনেক কর্মকর্তার মতে, কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে চীনকে মূল্যায়ন করলে বর্তমান বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হবে না।

ব্রাসেলসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এখন সময় এসেছে চীনকে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য ‘নির্ণায়ক সহায়তাকারী’ হিসেবেও মূল্যায়ন করার। তার মতে, ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতেই এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। চুক্তিতে রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দায়ুন স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ পুরো ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনের কাছ থেকে রুশ সেনাবাহিনীর শেখার মতো তেমন কিছু নেই।

তবে রয়টার্সের হাতে আসা রুশ সামরিক নথিতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে চীনের আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, উন্নত সিমুলেটর এবং প্রশিক্ষকদের উচ্চমানের তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় চীনের সীমাবদ্ধতা এখনও রয়ে গেছে।

নথিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামও রয়েছে। রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ, যিনি রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ। এছাড়া চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুন এবং রাশিয়ার মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।