অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড় করাতে শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না, বরং বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। প্রকল্প গ্রহণের আগে এর অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, কর্মসংস্থানে প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর কাঠামোর সংস্কার, দ্রুত সেবা প্রদান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। অন্যদিকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশের সফর সফল হলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সফরগুলোতে যদি নতুন বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন বাজার ও অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ছায়া সংসদে অংশ নেওয়া আলোচকরাও বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।





























