ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্টের কড়া সতর্কবার্তা

বার্লিনে বক্তব্য দিচ্ছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধী ক্রমবর্ধমান মনোভাব এবং সামাজিক বিভাজনের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার। রাজধানী বার্লিনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আইন মেনে জার্মানিতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই এই দেশের সমান অংশীদার।

আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে অভিবাসীবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দিয়ে এই বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ‘আমরা বনাম তারা’—এমন বিপজ্জনক জাতীয়তাবাদী মেরুকরণের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

জার্মানির অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামুকে শক্তিশালী রাখতে প্রবাসী শ্রম শক্তির অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, এই দেশে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বলে কিছু নেই। জার্মানির রাজনীতি ও সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, কেবল পূর্বপুরুষের রক্ত বা জন্মসূত্রের পরিচয়ে কেউ এককভাবে শ্রেষ্ঠ নাগরিক হয়ে যায় না। রাষ্ট্রের আইনগত নাগরিকত্বই একজন মানুষের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি, তাই সংবিধানে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য আলাদা রাষ্ট্রীয় সুবিধার সুযোগ নেই।

সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ না করলেও, ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র অভিবাসীবিরোধী প্রচারণার সরাসরি সমালোচনা হিসেবেই রাষ্ট্রপ্রধানের এই ভাষণের তাৎপর্য দেখছেন বিশ্লেষকরা।

একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে জার্মানি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে তা আবারও স্পষ্ট হলো। ইউরোপে চলমান নতুন আইনি পরিবর্তন ও সামাজিক সংস্কারের সর্বশেষ তথ্য পেতে ঘুরে আসুন আমাদের অভিবাসন নীতি বিভাগ থেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্টের কড়া সতর্কবার্তা

Update Time : ১১:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধী ক্রমবর্ধমান মনোভাব এবং সামাজিক বিভাজনের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার। রাজধানী বার্লিনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আইন মেনে জার্মানিতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই এই দেশের সমান অংশীদার।

আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে অভিবাসীবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দিয়ে এই বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ‘আমরা বনাম তারা’—এমন বিপজ্জনক জাতীয়তাবাদী মেরুকরণের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

আরও পড়ুন  ইরানের ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে প্রাণ গেল মার্কিন সেনার

জার্মানির অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামুকে শক্তিশালী রাখতে প্রবাসী শ্রম শক্তির অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, এই দেশে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বলে কিছু নেই। জার্মানির রাজনীতি ও সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, কেবল পূর্বপুরুষের রক্ত বা জন্মসূত্রের পরিচয়ে কেউ এককভাবে শ্রেষ্ঠ নাগরিক হয়ে যায় না। রাষ্ট্রের আইনগত নাগরিকত্বই একজন মানুষের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি, তাই সংবিধানে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য আলাদা রাষ্ট্রীয় সুবিধার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫

সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম উল্লেখ না করলেও, ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র অভিবাসীবিরোধী প্রচারণার সরাসরি সমালোচনা হিসেবেই রাষ্ট্রপ্রধানের এই ভাষণের তাৎপর্য দেখছেন বিশ্লেষকরা।

একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে জার্মানি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে তা আবারও স্পষ্ট হলো। ইউরোপে চলমান নতুন আইনি পরিবর্তন ও সামাজিক সংস্কারের সর্বশেষ তথ্য পেতে ঘুরে আসুন আমাদের অভিবাসন নীতি বিভাগ থেকে।

আরও পড়ুন  গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিল চীন? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর নথি