ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭ ডলারে পৌঁছেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনের পর এটি সর্বোচ্চ দাম। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পরও এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি তেলের দাম।

শুধু ব্রেন্ট ক্রুড নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পর্যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাজারে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন অঞ্চল। এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টিও আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাত একসঙ্গে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় নিচ্ছেন।

তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে দাম বেশি থাকলে পরিবহন, পণ্য উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের দাম গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, সরকারি নীতি ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর।

এখন তেলের বাজারের নজর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে উত্তেজনা কমে এলে বাজারেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কত দিন এই পর্যায়ে থাকবে, তা নিশ্চিত নয়। সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদার পরিবর্তন আগামী দিনে দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।