রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাই ঠেকাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও কিশোর রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র, লোহার রড এবং ছিনতাই হওয়া চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে তিনটি সুইচ গিয়ার, দুটি ধারালো চাকু, চারটি লোহার রড এবং একটি করাত কাটা চাকু উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহার করা হতো কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হাসনাইন হাসান নামে একজন রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও শেরেবাংলা নগর থানায় ছিনতাইয়ের অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে দুই কিশোর ও এক নারী সদস্যসহ একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় মানুষের চলাচলের সুযোগ নিয়ে ছিনতাই করতেন। পথচারী, বাসযাত্রী ও রিকশার আরোহীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। ব্যস্ততা কিংবা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে নারীদের ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র চুরির অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।

অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ায় সেগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামও তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হতে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের অপরাধ কমাতে নিয়মিত টহল, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদপুরের এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। পুলিশি অভিযোগ ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।