বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া ধলাপাহাড় কুমির এখন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রয়েছে। গত ১২ আগস্ট খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় একে ডুলাহাজারা পার্কে আনা হয়। পার্কের নতুন পরিবেশে বিশাল আকৃতির এই প্রাণীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসার পরদিন ধলাপাহাড় কুমির একটি আস্ত জীবিত মুরগি খেয়েছিল, তবে এরপর আর খাবার গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিবেশে আসার পর শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীদের দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এদের শরীরে সঞ্চিত ফ্যাট বা চর্বি থেকে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়া যায়, তাই চিকিৎসকদের মতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা জোর করে খাবার দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, প্রকাণ্ড আকারের এই মাদি কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে বাগেরহাটের মাজারের দিঘিতে আনা ছয়টি মিঠাপানির কুমিরের মধ্যে এটিই ছিল টিকে থাকা সর্বশেষ বেঁচে থাকা নিদর্শন।
সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে এক শিশুর করুণ প্রাণহানি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রশাসনের নির্দেশে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইতিপূর্বে দিঘির কূলে একটি কুকুরকেও আক্রমণ করেছিল কুমিরটি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে প্রাণীটিকে বিশেষ উদ্ধার কেন্দ্রের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দিঘি খননের পর হযরত খান জাহান আলী (রহ.) দুটি কুমির ছেড়েছিলেন, যেগুলোর নাম ছিল ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’। যদিও সেই মূল বংশধারার শেষ কুমিরটি ২০১৫ সালে শতবর্ষ বয়সে মারা যায়, তবে লোকমুখে ঐতিহ্যবাহী সেই নামগুলোই মাজারের দিঘির পরবর্তী কুমিরগুলোর ক্ষেত্রেও সাধারণ নাম হিসেবে প্রচলিত থেকে যায়।




























