ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কিডনি রোগীরা কেন ডাবের পানি পান করবেন না?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়ামের কারণে কিডনি রোগীদের পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি সবসময় নিরাপদ নয়। ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী হলেও কিডনি রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তীব্র গরমে শরীর সতেজ রাখতে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণে ডাবের পানি ভালো প্রাকৃতিক পানীয় হতে পারে। গরমে বা হালকা ব্যায়ামের পর এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সহায়তা করতে পারে।

তবে ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাবের পানি সবসময় খাবার স্যালাইনের বিকল্প নয়। এসব পরিস্থিতিতে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট দ্রুত বেরিয়ে যায়। খাবার স্যালাইনে সোডিয়াম, গ্লুকোজ ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে। ফলে পানিশূন্যতা মোকাবিলায় এটি বেশি কার্যকর।

ডায়রিয়া বা বমির সময় শরীর থেকে পানি ও লবণ দ্রুত কমে যায়। এ অবস্থায় খাবার স্যালাইনে থাকা গ্লুকোজ ও সোডিয়ামের নির্দিষ্ট অনুপাত অন্ত্রে পানি শোষণে সহায়তা করে। ফলে শরীরে হারানো পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতার আশঙ্কা থাকলে খাবার স্যালাইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকলেও এতে সোডিয়ামের পরিমাণ খাবার স্যালাইনের তুলনায় কম। তাই ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে শুধু ডাবের পানি পান করে সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ নাও হতে পারে। স্যালাইন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে পান করা উচিত। গুরুতর পানিশূন্যতা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাবের পানি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কিডনি রোগী বা পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি পান করা ঠিক নয়।

অন্যদিকে সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত ডাবের পানি পান করা সাধারণত উপকারী হতে পারে। তবে শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে অপ্রয়োজনে বারবার খাবার স্যালাইন পান করারও প্রয়োজন নেই। কোন পরিস্থিতিতে ডাবের পানি, আর কখন খাবার স্যালাইন প্রয়োজন—তা নির্ভর করে শরীরের অবস্থা ও পানিশূন্যতার কারণের ওপর। অতিরিক্ত বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন চুক্তি

কিডনি রোগীরা কেন ডাবের পানি পান করবেন না?

Update Time : ০৯:২২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি সবসময় নিরাপদ নয়। ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী হলেও কিডনি রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তীব্র গরমে শরীর সতেজ রাখতে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণে ডাবের পানি ভালো প্রাকৃতিক পানীয় হতে পারে। গরমে বা হালকা ব্যায়ামের পর এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন  ভেজা চুলে ঘুমানো কতটা ক্ষতিকর? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

তবে ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাবের পানি সবসময় খাবার স্যালাইনের বিকল্প নয়। এসব পরিস্থিতিতে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট দ্রুত বেরিয়ে যায়। খাবার স্যালাইনে সোডিয়াম, গ্লুকোজ ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে। ফলে পানিশূন্যতা মোকাবিলায় এটি বেশি কার্যকর।

ডায়রিয়া বা বমির সময় শরীর থেকে পানি ও লবণ দ্রুত কমে যায়। এ অবস্থায় খাবার স্যালাইনে থাকা গ্লুকোজ ও সোডিয়ামের নির্দিষ্ট অনুপাত অন্ত্রে পানি শোষণে সহায়তা করে। ফলে শরীরে হারানো পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতার আশঙ্কা থাকলে খাবার স্যালাইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল: ব্যবহার জানলে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক

ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকলেও এতে সোডিয়ামের পরিমাণ খাবার স্যালাইনের তুলনায় কম। তাই ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে শুধু ডাবের পানি পান করে সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ নাও হতে পারে। স্যালাইন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে পান করা উচিত। গুরুতর পানিশূন্যতা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাবের পানি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কিডনি রোগী বা পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি পান করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  বড় হয়েও মায়ের ওপর নির্ভরশীল? জানুন ‘মাদার কমপ্লেক্স’

অন্যদিকে সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত ডাবের পানি পান করা সাধারণত উপকারী হতে পারে। তবে শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে অপ্রয়োজনে বারবার খাবার স্যালাইন পান করারও প্রয়োজন নেই। কোন পরিস্থিতিতে ডাবের পানি, আর কখন খাবার স্যালাইন প্রয়োজন—তা নির্ভর করে শরীরের অবস্থা ও পানিশূন্যতার কারণের ওপর। অতিরিক্ত বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।