হাতের পাঁচটি আঙুল কখনোই সমান হয় না, এটা আমরা চিরকালই দেখে আসছি। কিন্তু কেন এমনটা হয় এবং ঠিক কেন মাঝের আঙুলটি বা মধ্যমা সবচেয়ে বড় থাকে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রবল কৌতূহল রয়েছে।

​এর সুনির্দিষ্ট ও শতভাগ প্রমাণিত কোনো উত্তর বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও জানা যায়নি। তবে বিজ্ঞান ও বিবর্তনের আলোকে এর বেশ কিছু যৌক্তিক ও বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা রয়েছে, যা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত বলে ধরে নেওয়া যায়।

​শক্ত মুঠির জন্য মধ্যমার ভূমিকা

যেকোনো ভারী বা কঠিন কাজ করতে গেলে মানুষ সাধারণত মুষ্টিবদ্ধ হাতে খুব শক্ত করে কিছু ধরে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময় হাতের মাঝের আঙুলের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। অর্থাৎ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম ও বেঁচে থাকার তাগিদে মাঝের আঙুলটির ব্যবহার ঠিক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেটা তুলনামূলক বড় ও শক্ত না হলে একেবারেই চলে না।

​শারীরবৃত্তীয়ভাবে দেখা গেছে, হাতের পেশিগুলো মূলত মাঝের আঙুলের হাড়ের চারপাশে খুব সুন্দরভাবে সুসজ্জিত থাকে এবং এই আঙুলের হাড়ও হাতের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত ও লম্বা হয়। এর ফলে মাঝের আঙুলটি হাতের ঠিক এমন একটি কেন্দ্রে অবস্থানে রয়েছে, যার সাহায্যে কাজ করার সময় সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানীরা আরও জানান, হাতের ফোরআর্ম থেকে আসা পেশিগুলো এই আঙুলের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের শক্তিশালী মুঠি বা পাওয়ার গ্রিপ তৈরি করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

​বিবর্তনের ধারায় মানুষের টিকে থাকা

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আদিম যুগে মানুষ মূলত বনজঙ্গলের ফলমূল খেয়েই বাঁচত। সে সময় উঁচু গাছের ডাল থেকে ফল পাড়ার জন্য হাতের এই শক্ত মুঠি একটি অনেক বড় ভূমিকা পালন করত। আর ঠিক সেই কঠিন জায়গাটিতেই মাঝের আঙুলটি বড় হওয়ায় মানুষের জীবন ধারণ অনেকটাই সহজ হয়েছে।

​প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে সে কারণেই মাঝের বড় আঙুলটি জীবনের পরীক্ষায় সফলভাবে টিকে গেছে। কালের বিবর্তনে মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যে সেটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী বা শিম্পাঞ্জিরা চলাফেরার জন্য হাত ও পা উভয়ই সমানভাবে ব্যবহার করলেও, বিবর্তনের ধারায় মানুষ হাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে সূক্ষ্ম কাজ থেকে শুরু করে ভারী জিনিস তোলা সবখানেই হাতের আঙুলগুলোর গঠন নতুন করে বিকশিত হয়।

​বুড়ো আঙুলের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয়

শক্ত মুঠিতে কোনো কিছু নিখুঁতভাবে ধরার সক্ষমতার সঙ্গে হাতের অন্যান্য আঙুলের অবস্থান ও গঠনের যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তা আমাদের বুড়ো আঙুলের অবস্থান থেকে আরও অনেক বেশি স্পষ্ট বোঝা যায়।

​খেয়াল করলে দেখবেন, বুড়ো আঙুলটি হাতের অন্য চারটি আঙুলের তুলনায় ঠিক বিপরীত দিকে এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেন আঙুলগুলো দুই বিপরীত দিক থেকে গোল করে এনে কোনো কিছু শক্ত মুঠিতে আঁকড়ে ধরা খুব সহজ হয়। হাতের এই জটিল ও নিখুঁত মেকানিজমে মধ্যমা বা মাঝের আঙুলটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। হাতের এই অসাধারণ গঠন ও সমন্বয়ের কারণেই মানুষ খুব সহজেই সূক্ষ্ম জিনিস ধরা থেকে শুরু করে ভারী যন্ত্রপাতি চালানো বা নিখুঁত শিল্পকর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।