দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মো. মশিউর ইসলাম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জনপ্রিয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ‘কিশোরকণ্ঠ পরীক্ষা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘কিশোরকণ্ঠ পড়বো, জীবনটাকে গড়বো’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরীক্ষায় জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দিনাজপুরের ছয়টি উপজেলায় ১২টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলাগুলো হলো-পার্বতীপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর ও ফুলবাড়ী। এতে বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

পার্বতীপুর উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২৫ জন, ভবানীপুর শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৪ জন এবং যশাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রে মনোযোগ দিয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা এবং কক্ষ পরিদর্শকের নজরদারি
কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় দিনাজপুরের ৬টি উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের দিনাজপুর দক্ষিণ জেলার উপদেষ্টা আলহাজ মো. আনোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক সারোয়ার হোসেন, পার্বতীপুর উপজেলা পরিচালক আল ইমরান ও উপজেলা সহকারী পরিচালক আল হাসির ইসলাম। এ ছাড়া ভবানীপুর কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন জেলা উপদেষ্টা শাহীন আক্তার এবং যশাই কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী সম্পাদক ওমর হান্নান।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল, সাধারণ ও বিশেষ-এই তিন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ২ লাখ টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে একটি ল্যাপটপ। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

আয়োজকরা জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি ও অনলাইনে ২০০ টাকা নিবন্ধন ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তুলবে এবং জ্ঞানচর্চার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।