চণ্ড গরমে হাঁপিয়ে ওঠার পর আমরা যখন কোনো বড় গাছের নিচে দাঁড়াই, তখন মুহূর্তেই শরীরে এক প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে যায়। ইট পাথরের শহরের চেয়ে যেসব এলাকায় গাছপালা বেশি থাকে, সেখানকার পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি শীতল হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এর পেছনের আসল কারণটি কী? অনেকেই হয়তো ভাবেন কেবল গাছের বিশাল ছায়ার কারণেই এমনটা হয়। তবে বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গাছপালা মূলত একধরনের প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ারকন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে চারপাশকে ঠান্ডা রাখে।
বিশাল আকৃতির গাছের বিস্তৃত ছায়া পরিবেশকে শীতল করতে অবশ্যই বড় একটি ভূমিকা রাখে। সূর্যের প্রখর তাপ সরাসরি মাটিতে বা আমাদের শরীরে লাগতে বাধা দেয় এই পাতার আচ্ছাদন। তবে এর বাইরেও গাছ একটি বিশেষ ও চমৎকার প্রক্রিয়ায় চারপাশের পরিবেশকে সুশীতল করে তোলে। নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে এবং খাদ্য তৈরির জন্য গাছ শিকড়ের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি শুষে নেয়। এই প্রক্রিয়ায় শোষিত সব পানি গাছের খাদ্য তৈরিতে কাজে লাগে না।
পরিবেশের বা বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা যখন অনেক বেশি থাকে, তখন গাছ তার পাতার অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানিটুকু জলীয় বাষ্পের আকারে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলা হয়। পাতার ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসা এই জলীয় বাষ্প চারপাশের উত্তপ্ত বাতাস থেকে তাপ গ্রহণ করে পরিবেশকে প্রাকৃতিকভাবেই একদম ঠান্ডা করে দেয়। একটি মাঝারি আকারের গাছের পাতা প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গার সমপরিমাণ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত থাকে। বিশাল এই আয়তন থেকে যখন অনবরত জলীয় বাষ্প বের হয়, তখন ওই এলাকাটি এসির মতো শীতল হয়ে ওঠে।
গাছ থেকে বাষ্পের আকারে বেরিয়ে আসা এই পানি সাধারণ বাতাসের চেয়ে অনেক হালকা হয়। হালকা হওয়ার কারণে এই জলীয় বাষ্প খুব সহজেই আকাশের দিকে ওপরে উঠে যায় এবং ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে মেঘ তৈরি করে। আর আকাশে মেঘের পরিমাণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সেই এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও বহুগুণে বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সেই মেঘ থেকেই স্বস্তির বৃষ্টি নেমে আসে পৃথিবীতে।
বৃষ্টির মাধ্যমে মেঘের সেই পানি পুনরায় আবার মাটিতেই ফিরে আসে এবং পুরো এলাকার আবহাওয়াকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শীতল ও মনোরম করে তোলে। এভাবেই একটি চমৎকার প্রাকৃতিক চক্রের মাধ্যমে গাছ পরিবেশের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। মূলত এ কারণেই যেসব এলাকায় বনভূমি বা গাছপালার পরিমাণ বেশি থাকে, সেখানে তুলনামূলকভাবে মেঘ বেশি তৈরি হয় এবং বৃষ্টিপাতও বেশি হয়। তাই বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক উষ্ণতা ও তীব্র দাবদাহ থেকে নিজেদের এলাকাকে শীতল রাখতে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন