২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত এখনো ভুলতে পারেননি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনাটি তাঁকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের অসাধারণ দক্ষতায় আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতত।
সম্প্রতি ‘লস এদুল’ নামের ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ ফাইনালের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন। তার আগে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো।
সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য টাইব্রেকার নিয়ে এনজো বলেন, ‘আমরা টাইব্রেকারে জিততাম। অবশ্যই। আমাদের দলে দিবু ছিল। আমরা জানতাম, সে সেখানে কখনো ব্যর্থ হয় না।’ মার্তিনেজের ওপর তাঁর এই আস্থার পেছনে রয়েছে জাতীয় দলের হয়ে গোলরক্ষকের দুর্দান্ত রেকর্ড।
আর্জেন্টিনার হয়ে চারটি টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন মার্তিনেজ। প্রতিবারই অন্তত দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে জিততে সাহায্য করেছেন তিনি। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে তিনটি শট ঠেকিয়ে প্রথম বড় আলোচনায় আসেন এই গোলরক্ষক। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
বিশ্বকাপের শেষ দিকে চোট নিয়েও মার্তিনেজের খেলার প্রশংসা করেছেন এনজো। বিশেষ করে ডান হাতের আঙুলে গুরুতর সমস্যা থাকার পরও যেভাবে গোলপোস্ট সামলেছেন, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে। এনজোর ভাষায়, ‘এটা ছিল অবিশ্বাস্য। তার আঙুলে কোনো নড়াচড়া ছিল না। ব্যাপারটা ছিল পাগলাটে। দিবু যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ফাইনালে হারের পর স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বও অকপটে মেনে নিয়েছেন এনজো। তাঁর মতে, বলের দখল ও খেলার নিয়ন্ত্রণে স্পেন এগিয়ে ছিল। তাই শিরোপা জয়ের যোগ্য দল হিসেবেই প্রতিপক্ষকে দেখছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রতত্ত্বও উড়িয়ে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর দাবি, ফাইনালে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি; স্পেন মাঠের পারফরম্যান্সেই জিতেছে।
এনজো বলেন, ‘আমার মা-বাবা আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিলেন, কী হয়েছিল। কিছুই হয়নি। সবই মিথ্যা, সব বানানো কথা। স্পেন আমাদের ন্যায্যভাবেই হারিয়েছে। আমাদের প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে হবে।’
আর্জেন্টিনার হারের পেছনে শারীরিক ক্লান্তির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলের অনেক খেলোয়াড়ই পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলার ধকলও দলকে ভুগিয়েছে বলে মনে করেন এনজো। তাঁর ভাষ্য, দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় ছিলেন এবং শেষ কয়েক সপ্তাহ ছিল খুবই ক্লান্তিকর।
দলের এই শারীরিক অবস্থার কারণে ফাইনালে নিজেদের সেরা খেলাটা দেখানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য সতীর্থদের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখতে চান না এনজো। তাঁর মতে, পুরো দল শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকে ১০-এর মধ্যে ৭ দিয়েছেন এনজো। তবে ব্যক্তিগত মূল্যায়নের চেয়ে শিরোপা না জেতার আক্ষেপই তাঁর কাছে বড়। ফাইনালের লাল কার্ডের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে এমনভাবে মাঠ ছাড়ার ঘটনা এখনো মনে কষ্টের পাথর হয়ে আছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন