চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো জামিন পেলেন না খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বিচারক তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে নব্বইয়ের দশকের আলোচিত এই অভিনেতাকে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম। তিনি আদালতে দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় চার দফা তদন্ত হলেও ডনের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাও করেননি বলে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর সেখান থেকেই ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ডন পালিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তি নন এবং ভবিষ্যতেও তার পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক থাকায় তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন বলেও যুক্তি তুলে ধরেন তারা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডনের জামিন মঞ্জুর করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।
জামিন আবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুর বিভিন্ন তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনও তুলে ধরে আসামিপক্ষ। তাদের দাবি, মৃত্যুর পর তৈরি করা দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ডনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তার আইনজীবীরা।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। এবার মহানগর দায়রা জজ আদালতেও জামিন না পাওয়ায় তার কারামুক্তির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে ২৭ আগস্ট আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তার ব্যক্তিগত ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ডন অবগত ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির আবেদনে আরও বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার আগে, পরে এবং ঘটনার সময় ডনের আচরণ ও চলাফেরা বিশ্লেষণ করে মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে বলেও আদালতকে জানায় সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। এখন ওই প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন