ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পাকিস্তান ক্রিকেট ১০ বছর পিছিয়ে গেছে: সাঈদ আজমল Logo বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে ইউএইর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার Logo বাঁধনকে নিয়ে ফারুকীর ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন সরকার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে Logo জ্ঞান ও সংলাপের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে হবে : ঢাবি উপাচার্য Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান Logo ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র? Logo গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম : রাষ্ট্রপতি Logo খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক ফেডারেশনের ২য় বর্ষপূর্তি, নতুন কমিটি ঘোষণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ইউজিসি

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ইউজিসি

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ইউজিসি

দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এ সুযোগ দেওয়া হবে না। গবেষণার মান, শিক্ষক-গবেষকের সক্ষমতা, একাডেমিক পরিবেশ ও অন্যান্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে পারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই পিএইচডি চালুর অনুমতি পেতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে গবেষণার গুণগত মান ও একাডেমিক সততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সক্ষমতা না থাকা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ পাবে না। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পিএইচডি শুধু একটি ডিগ্রি নয়; এর সঙ্গে গবেষণার মান, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং একাডেমিক সততার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক ও গবেষক এবং মানসম্মত গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাই মানসম্মত গবেষণা এবং সেই মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে মানসম্মত পিএইচডি।

পিএইচডি কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে অনিয়ম বা নিম্নমানের গবেষণার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর আগে পর্যাপ্ত গবেষণার পরিবেশ, যোগ্য তত্ত্বাবধায়ক, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক অবকাঠামো থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গবেষণায় তথ্যের সঠিক ব্যবহার, মৌলিকত্ব, গবেষণার নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে পিএইচডির অনুমোদনকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর সঙ্গে নয়, গবেষণার বাস্তব সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত করতে চায় ইউজিসি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান দেশে যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকের সংকটের কথাও তুলে ধরেন। এ সংকট কাটাতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর নিয়ে ইউজিসির জাতীয় কর্মশালাতেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছিল। ইউজিসি বলেছে, গবেষণার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালুর সুযোগ দেওয়া হলে দেশের গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন গবেষক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ড এবং একাডেমিক প্রশাসনকে নিজ নিজ দায়িত্বের সীমারেখা মেনে কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে ট্রাস্টি বোর্ডের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ইউজিসিকে ট্রাস্টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রশাসনের মধ্যকার বিরোধও সামলাতে হচ্ছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা মেনে চললে অনেক বিরোধেরই সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষক ও গবেষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও গবেষণার মানোন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ইউজিসি উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের অংশ হিসেবে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি প্রদানের সুযোগ দেওয়া হলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে পারে। তবে ইউজিসির অবস্থান অনুযায়ী, এই সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গবেষণার মান এবং একাডেমিক সততা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষক ও গবেষক তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে। তবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের মানদণ্ড পূরণ করলে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা বা অনুমোদন কাঠামো পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান ক্রিকেট ১০ বছর পিছিয়ে গেছে: সাঈদ আজমল

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে ইউজিসি

Update Time : ০৯:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এ সুযোগ দেওয়া হবে না। গবেষণার মান, শিক্ষক-গবেষকের সক্ষমতা, একাডেমিক পরিবেশ ও অন্যান্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে পারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই পিএইচডি চালুর অনুমতি পেতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে গবেষণার গুণগত মান ও একাডেমিক সততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সক্ষমতা না থাকা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ পাবে না। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পিএইচডি শুধু একটি ডিগ্রি নয়; এর সঙ্গে গবেষণার মান, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং একাডেমিক সততার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক ও গবেষক এবং মানসম্মত গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা, অভিভাবকদের জন্য বোর্ডের নতুন জরুরি নির্দেশনা

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাই মানসম্মত গবেষণা এবং সেই মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে মানসম্মত পিএইচডি।

পিএইচডি কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে অনিয়ম বা নিম্নমানের গবেষণার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর আগে পর্যাপ্ত গবেষণার পরিবেশ, যোগ্য তত্ত্বাবধায়ক, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক অবকাঠামো থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গবেষণায় তথ্যের সঠিক ব্যবহার, মৌলিকত্ব, গবেষণার নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে পিএইচডির অনুমোদনকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর সঙ্গে নয়, গবেষণার বাস্তব সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত করতে চায় ইউজিসি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান দেশে যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকের সংকটের কথাও তুলে ধরেন। এ সংকট কাটাতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর নিয়ে ইউজিসির জাতীয় কর্মশালাতেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছিল। ইউজিসি বলেছে, গবেষণার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালুর সুযোগ দেওয়া হলে দেশের গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন গবেষক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ, অপেক্ষার প্রহর গুনছে শিক্ষার্থীরা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ড এবং একাডেমিক প্রশাসনকে নিজ নিজ দায়িত্বের সীমারেখা মেনে কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে ট্রাস্টি বোর্ডের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ইউজিসিকে ট্রাস্টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রশাসনের মধ্যকার বিরোধও সামলাতে হচ্ছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা মেনে চললে অনেক বিরোধেরই সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষক ও গবেষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন

ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও গবেষণার মানোন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ইউজিসি উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের অংশ হিসেবে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি প্রদানের সুযোগ দেওয়া হলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে পারে। তবে ইউজিসির অবস্থান অনুযায়ী, এই সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গবেষণার মান এবং একাডেমিক সততা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষক ও গবেষক তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে। তবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের মানদণ্ড পূরণ করলে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা বা অনুমোদন কাঠামো পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।