চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ মো. নুরুল আলম
টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে লাখো টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় উপজেলার অসংখ্য মৎস্যচাষী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বন্যার হানা তাদের সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলের পানিতে উপজেলার মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায়
১৬৩০ টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। পুকুরগুলোর মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এনজিও, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা ৪টি মৎস্য প্রকল্পের (পুকুর) অধিকাংশ মাছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষি জেলে ফনিন্দ্র দাশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) চন্দনাইশ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্প (পুকুর) গুলো পরিদর্শনের সময় জেলে চাষি ফনিন্দ্র দাশ কান্নায় ভেঙে পড়েন। চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, মাছ বিক্রির ঠিক আগ মুহূর্তে এ ক্ষতির ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী ক্ষতিগ্রস্ত জেলে চাষি ফনিন্দ্র দাশ জানান, কয়েকটি ব্যাংক-এনজিও থেকে ১০ লাখ টাকা এবং সহপাঠী ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় তার ৪টি প্রকল্পের (পুকুর) মাছ পানিতে ভেসে গেছে। সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে আমাদের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় আমাদের সব আশা চুরমার হয়ে গেছে। সে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দনাইশ উপজেলায় পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য মৎস্যচাষী এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই ব্যাংক, এনজিও ও ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করায় এখন ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহসান বলেন, “মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১৬৩০ টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে।
বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ মাছচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বরাদ্দ এলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি যেসব দাতব্য সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে থাকেন তাদেরকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুরোধ জানান।

























