ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo তাজমহল কি একসময় মন্দির ছিল? নতুন বিতর্কে কী বলছে ইতিহাস Logo সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি হলেন আবেদুর রহমান সিকদার Logo বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি, কেন বাড়ছে উদ্বেগ? Logo বন্যায় কৃষি ক্ষতি: ৪৮৮ কোটি টাকার ধাক্কা, বড় সতর্কবার্তা Logo বিনা মূল্যের বই ছাপায় ৩০০ কোটি টাকার অপচয়ের অভিযোগ Logo বর্ষায় ছত্রাক সংক্রমণ এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন Logo চন্দনাইশ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ওমান এর উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছয়শতাধিক পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ Logo অ্যান্ডি বার্নহামই হতে চলেছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী! Logo ওমান উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়া, স্যাটেলাইটে মিলল দূষণের আলামত Logo মেক্সিকোতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প: উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি

বন্যায় কৃষি ক্ষতি: ৪৮৮ কোটি টাকার ধাক্কা, বড় সতর্কবার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৫

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ধান ও সবজির ক্ষেত। ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। সরকারি প্রাথমিক হিসাবে এসব খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও হাজার হাজার হেক্টর জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের সামনে বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি এখনো প্লাবিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান, যার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

মৎস্য খাতেও ক্ষতির পরিমাণ উদ্বেগজনক। বন্যার পানিতে হাজার হাজার মাছের খামার, পুকুর ও ঘের ভেসে গেছে। সরকারি হিসাবে এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। প্রায় ৩৪ হাজার মাছের খামার ও পুকুর এবং প্রায় ৪ হাজার ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক মৎস্যচাষি তাদের বছরের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। চার হাজারের বেশি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৮১ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। খামারিদের অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বন্যার প্রভাব আগামী কয়েক মাস খাদ্যবাজারে পড়তে পারে। আউশ ধানের উৎপাদন কমে গেলে চালের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মাছ, সবজি ও পোলট্রিপণ্যের দামও কিছুটা বাড়তে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জেলায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত পুনর্বাসন ও কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাজমহল কি একসময় মন্দির ছিল? নতুন বিতর্কে কী বলছে ইতিহাস

বন্যায় কৃষি ক্ষতি: ৪৮৮ কোটি টাকার ধাক্কা, বড় সতর্কবার্তা

Update Time : ০৮:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। সরকারি প্রাথমিক হিসাবে এসব খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও হাজার হাজার হেক্টর জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের সামনে বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি এখনো প্লাবিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান, যার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

আরও পড়ুন  এল নিনো ঘিরে নতুন সতর্কতা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মৎস্য খাতেও ক্ষতির পরিমাণ উদ্বেগজনক। বন্যার পানিতে হাজার হাজার মাছের খামার, পুকুর ও ঘের ভেসে গেছে। সরকারি হিসাবে এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। প্রায় ৩৪ হাজার মাছের খামার ও পুকুর এবং প্রায় ৪ হাজার ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক মৎস্যচাষি তাদের বছরের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন  বারহাট্টায় ১ হাজার ৯০০ কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ-সার বিতরণ

প্রাণিসম্পদ খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। চার হাজারের বেশি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৮১ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। খামারিদের অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বন্যার প্রভাব আগামী কয়েক মাস খাদ্যবাজারে পড়তে পারে। আউশ ধানের উৎপাদন কমে গেলে চালের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মাছ, সবজি ও পোলট্রিপণ্যের দামও কিছুটা বাড়তে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুন  লাগামহীন বাজার দর : মাছ, মুরগি , সবজি ও তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

এদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জেলায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত পুনর্বাসন ও কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।