ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ানের রোবট কুকুর, চীনের হামলা ঠেকাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তি

চীনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রদর্শিত তাইওয়ানের চার পা-ওয়ালা সামরিক রোবট কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের রোবট কুকুর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোতে নজরদারি, টহল এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় চার পা-ওয়ালা সামরিক রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তাইওয়ান।

তাইপেইয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (NCSIST) সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের সামরিক রোবট কুকুরের প্রদর্শনী করেছে। এসব রোবট মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ত্র বহনের সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোবটগুলোর মূল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Ghost Robotics। তবে তাইওয়ানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রযুক্তি যুক্ত করে এগুলোকে সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলেছে। কিছু মডেলে আগ্নেয়াস্ত্র সংযোজনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি ও প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের মতো দুর্গম অঞ্চলে নিয়মিত টহল দেওয়া এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা কঠিন। এসব এলাকায় রোবট কুকুর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সেখানে স্থায়ী জনবসতি সীমিত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রোবট কুকুর কেনার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকা, সৈকত ও দূরবর্তী দ্বীপে কোস্টগার্ড এবং মেরিন বাহিনীর কাজে এগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য চীনা সামরিক চাপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হয়। তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সেখানে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ কারণে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক প্ল্যাটফর্ম নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে রোবোটিক্সের ব্যবহার বিশ্বজুড়েই দ্রুত বাড়ছে। চীনও ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামরিক রোবট কুকুর তৈরি করেছে। ফলে তাইওয়ানের এই উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মানব সেনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। তাইওয়ানের রোবট কুকুর প্রকল্প সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ানের রোবট কুকুর, চীনের হামলা ঠেকাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তি

Update Time : ১০:২৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

তাইওয়ানের রোবট কুকুর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোতে নজরদারি, টহল এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় চার পা-ওয়ালা সামরিক রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তাইওয়ান।

তাইপেইয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (NCSIST) সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের সামরিক রোবট কুকুরের প্রদর্শনী করেছে। এসব রোবট মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ত্র বহনের সক্ষমতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চীনের লাইনশাইন এখন বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোবটগুলোর মূল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Ghost Robotics। তবে তাইওয়ানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রযুক্তি যুক্ত করে এগুলোকে সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলেছে। কিছু মডেলে আগ্নেয়াস্ত্র সংযোজনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি ও প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের মতো দুর্গম অঞ্চলে নিয়মিত টহল দেওয়া এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা কঠিন। এসব এলাকায় রোবট কুকুর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সেখানে স্থায়ী জনবসতি সীমিত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন  এআই যুগে সৃজনশীল বিষয়ে পড়ে কি সত্যিই ‘ভাত নাই’?

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রোবট কুকুর কেনার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকা, সৈকত ও দূরবর্তী দ্বীপে কোস্টগার্ড এবং মেরিন বাহিনীর কাজে এগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য চীনা সামরিক চাপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হয়। তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সেখানে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ কারণে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক প্ল্যাটফর্ম নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  থাইল্যান্ডের এআইটি পরিদর্শনে মাভাবিপ্রবি উপাচার্য, গবেষণায় যৌথ কাজের পরিকল্পনা

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে রোবোটিক্সের ব্যবহার বিশ্বজুড়েই দ্রুত বাড়ছে। চীনও ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামরিক রোবট কুকুর তৈরি করেছে। ফলে তাইওয়ানের এই উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মানব সেনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। তাইওয়ানের রোবট কুকুর প্রকল্প সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।