ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আইসক্রিম বাজার দ্রুত দ্বিগুণ: ৫ বছরে ৩৫০০ কোটি টাকার শিল্পে স্বাদের চমক Logo বাগদানের গুঞ্জনের মাঝেই নতুন ছবি শেয়ার করলেন পূজা চেরী Logo ফেসবুকে ঢুকতে পারছেন না? হঠাৎ মেটা বিভ্রাটে ভোগান্তি Logo রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়: বিশ্বকাপে ফিফার বিশাল সাফল্য Logo শিশুর সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ার সহজ ৭ কার্যকর উপায় Logo জাহিদ হাসানের বিশ্বকাপ ফাইনাল ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনা ১-০ জিতবে নাকি ৫-৪? Logo চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মাঝে চট্টগ্রাম ফোরাম তেজগাঁও এর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ Logo অঙ্কুরিত আলু-পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া নিরাপদ? জানুন সত্য Logo বর্ষায় সুস্থ থাকতে পাতে রাখুন ৭ সবজি, কমবে সংক্রমণের ঝুঁকি Logo সাধারণ ক্লান্তি নাকি ব্রেন টিউমার? সহজেই পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

চিত্রঃ সরাইলে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে চারজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেপটিক ট্যাংকে চারজনের মৃত্যু ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন গলানিয়া গ্রামের মমসার (১৮), উত্তর গলানিয়া পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন (১৫) ও হৃদয় মিয়া (১৫), এবং ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান (১৪)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর বয়সী হওয়ায় পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলী মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। প্রথমে একজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে একে একে আরও কয়েকজন তাকে উদ্ধার করতে নিচে নামেন। তবে ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজের চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে বের করেন। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহত মমসার পেশায় পাইপ ফিটার ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই এভাবে তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

এলাকাবাসী জানান, এমন দুর্ঘটনা এর আগেও বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও সচেতনতার অভাবে মানুষ এখনও ঝুঁকি নিয়ে সেপটিক ট্যাংকে নামছেন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের কাজে নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেপটিক ট্যাংকে চারজনের মৃত্যু ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাংক বা বন্ধ স্থানে কাজ করার আগে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসক্রিম বাজার দ্রুত দ্বিগুণ: ৫ বছরে ৩৫০০ কোটি টাকার শিল্পে স্বাদের চমক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : ০৮:১৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেপটিক ট্যাংকে চারজনের মৃত্যু ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন গলানিয়া গ্রামের মমসার (১৮), উত্তর গলানিয়া পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন (১৫) ও হৃদয় মিয়া (১৫), এবং ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান (১৪)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর বয়সী হওয়ায় পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলী মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। প্রথমে একজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে একে একে আরও কয়েকজন তাকে উদ্ধার করতে নিচে নামেন। তবে ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজের চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

আরও পড়ুন  বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করল আমিরাত

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে বের করেন। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহত মমসার পেশায় পাইপ ফিটার ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই এভাবে তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

আরও পড়ুন  ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকান-বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

এলাকাবাসী জানান, এমন দুর্ঘটনা এর আগেও বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও সচেতনতার অভাবে মানুষ এখনও ঝুঁকি নিয়ে সেপটিক ট্যাংকে নামছেন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের কাজে নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  চাঞ্চল্যকর কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা: পদ স্থগিত সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা

সেপটিক ট্যাংকে চারজনের মৃত্যু ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাংক বা বন্ধ স্থানে কাজ করার আগে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা জরুরি।